হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সাতকানিয়ায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা: নেপথ্যে পূর্বশত্রুতা নাকি মাদক কারবার

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

গণপিটুনিতে নিহত মোহাম্মদ সেলিম (৪৫)। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় তথাকথিত ‘গণপিটুনিতে’ এক ব্যক্তি নিহত ও আরও দুজনের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, এলাকায় মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

পুলিশ ইতিমধ্যে এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চরতী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলা বাজার খতিরহাট এলাকায় একদল লোক তিন ব্যক্তির ওপর চড়াও হন। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মোহাম্মদ সেলিম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় মো. মামুন (৩২) ও সৈয়দ হোসেন (৪০) নামের আরও দুজন আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিমের মৃত্যু হয়। নিহত সেলিম চরতী ইউনিয়নের খতিরহাট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে দুটি ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

নিহত সেলিমের বাবা আবুল খায়ের এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিহত সেলিমের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়েও বিরোধ ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, ঈদুল আজহার দিন সকালে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রথম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ওই ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যায় স্থানীয় কিছু লোক সেলিম ও তাঁর সহযোগীদের ধরে মারধর করেন, যা পরে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর আজ শুক্রবার নিহত সেলিমের বাবা আবুল খায়ের বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিম নামের একজন মারা গেছেন। আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অগ্রগতির বিষয়ে ওসি বলেন, নিহত সেলিমের বাবার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইসমাইল ওরফে ইমনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামে বাস-লেগুনার সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪

আগুনের খবর দিলেও আসেনি ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয়দের ক্ষোভ

ফটিকছড়িতে রাস্তায় পড়ে আছে চামড়া, রাতভর অপেক্ষা করেও দেখা মেলেনি ক্রেতার

চট্টগ্রামে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ২০

চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজে আগুন

চট্টগ্রামে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত

বৃষ্টি আর বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তি, তবুও থেমে নেই ঈদযাত্রা

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা: ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

সড়ক প্রশস্ত করতে কাটা হলো কয়েক শ গাছ, ‘এত দেখলে কাজ থেমে যাবে’—উপজেলা প্রকৌশলী

আনোয়ারায় দুই গ্রামে ঈদ কাল