বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের তহবিল থেকে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৮০ টাকা উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফেডারেশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ওই অর্থ উত্তোলন করেছেন সাধারণ সম্পাদক দিলদার হোসেন দিলু ও কোষাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এ ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর তাঁদের কারণ দর্শানোর চিঠি দেন সভাপতি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হলেও বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
চিঠির জবাব দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক দিলু। তাঁর দাবি, সভাপতিকে মৌখিকভাবে অবহিত করেই সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। ফেডারেশনের কার্যক্রম সচল রাখতেই ওই অর্থ তোলা হয়েছিল।
দিলু বলেন, ‘বিগত সময়ে আমরা সভাপতিকে মৌখিকভাবে অবহিত করে সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরে অর্থ উত্তোলন করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় উশুর কার্যক্রম চালু রাখতে আমরা অর্থ উঠিয়েছি। বর্তমান সভাপতি এটি সম্প্রতি মিটিংয়ে উত্থাপন করেছিলেন, সেখানে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তিনি চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠির উত্তর ও অর্থের হিসাব দেওয়া হয়েছে।’
সভাপতি সাইফুল ইসলামের বক্তব্য, অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর থাকলেই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন যথাযথ অনুমোদনও। তিনি বলেন, ‘সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারার তিনজনের মধ্যে দুজনের স্বাক্ষরে লেনদেন করা যায়। কিন্তু সেটার ভিত্তি বা অনুমোদন প্রয়োজন। সভাপতি কিংবা নির্বাহী কমিটির অনুমোদন ছাড়া অর্থ উত্তোলন সঠিক প্রক্রিয়া নয়। এ জন্যই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারা উত্তর দিয়েছে, সামনের নির্বাহী সভায় এটা নিয়ে আলোচনা হবে।’
ফেডারেশনের সভাপতি শোকজের চিঠির অনুলিপি দিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালককে। বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশনের পরবর্তী নির্বাহী সভায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এশিয়ান গেমসে জিন্নাত আক্তারের ব্রোঞ্জ জয়ের পর উশু আলোচনায় এলেও ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ এই বিরোধ সামনে এসেছে। ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের হয়ে পদক জেতেন জিন্নাত। তাঁর জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করতে পারেনি উশু ফেডারেশন।