২০ বছর তো আর কম সময় নয়। দীর্ঘ এই সময় পর ফাইনালে ওঠার আনন্দ তাই এমনই। তাও এমন উদযাপনের মুহূর্ত যদি আসে ঘরের মাঠে, তাহলে তো কথাই নেই। দীর্ঘ দুই দশক পর ফাইনালে ওঠার পর কোচ মিকেল আর্তেতা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছেন।
আর্সেনাল-আতলেতিকো মাদ্রিদ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় ফাইনালে ওঠার সমীকরণ ছিল খুবই সহজ। দ্বিতীয় লেগে জিতলেই মিলবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালের টিকিট। লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে গত রাতে ১-০ গোলে জিতে ২০ বছর পর ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল আর্সেনাল। ম্যাচ শেসে সংবাদ সম্মেলনে আর্তেতা বলেন, ‘এটা এক অসাধারণ রাত। আমরা আবার একসঙ্গে ইতিহাস গড়েছি এবং এই ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের কাছে এর চেয়ে বেশি খুশি বা গর্বিত হওয়ার মতো বিষয় হতে পারে না।’
দুই লেগ মিলে ২-১ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্সেনাল। লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে গত রাতে দ্বিতীয় লেগে একমাত্র গোলটি ৪৪ মিনিটে করেন বুকায়ো সাকা। আতলেতিকোর রক্ষণচিড়ে সাকার সেই অসাধারণ গোলের পর গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু এই গোলেই নয়, পুরোটা সময় জুড়ে লাল জার্সি পরা দর্শকেরা গলা ফাটিয়েছেন গানার্সদের উদ্দেশ্যে।
দীর্ঘ ২০ বছর পর ফাইনালে ওঠার আনন্দ আর্তেতা তাই ভাগ করে নিতে চান দর্শকদের সঙ্গেও। দ্বিতীয় লেগে ১-০ গোলে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আর্সেনাল কোচ বলেন, ‘আমরা জানতাম এটা সবার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের পুরোটা উজাড় করে দিয়েছি। ছেলেরা অসাধারণ কাজ করেছে এবং ২০ বছর পর নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ফিরে এসেছি। স্টেডিয়ামের বাইরে আমরা যেভাবে অভ্যর্থনা পেয়েছি, তা ছিল বিশেষ এবং অনন্য।’
দুই দলের লিগ পর্বের দেখায় এমিরেটসে আতলেতিকোকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল আর্সেনাল। গত রাতে বাঁচা-মরার ম্যাচে কিছুটা রক্ষণাত্মকই খেলেছে আতলেতিকো। দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আতলেতিকো। কিন্তু ৫১ মিনিটে গিলিয়ানো সিমিওনে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন আরেক তারকা ফুটবলার আঁতোয়া গ্রিজমানও। শেষ পর্যন্ত দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে আর্সেনাল।
২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয়েছিল আর্সেনাল। সেবার গানার্সদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনা। আর্তেতার অধীনে দলটির কাছে সুযোগ তৈরি হয়েছে প্রথমবারের মতো ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট জয়ের। এবার তারা ফাইনাল খেলবে বায়ার্ন মিউনিখ বা পিএসজির বিপক্ষে। আজ রাতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হবে বায়ার্ন-পিএসজি। ৩০ মে বুদাপেস্টে হবে ফাইনাল।