বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেও শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে সোমালিয়ার বর্ষসেরা রেফারি ওমর আরতানের। মার্কিন মুলুকে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় টুর্নামেন্টের ম্যাচ পরিচালনার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। এটা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার সমান বলে মনে করছেন আরতান।
২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) বর্ষসেরা রেফারি নির্বাচিত আরতান শনিবার মায়ামিতে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। পরবর্তীতে ফিফা তাঁকে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত ম্যাচ অফিসিয়ালদের তালিকা থেকে বাদ দেয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত দেশগুলোর একটি সোমালিয়া। বৃহত্তর অভিবাসন ও নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, আরতানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে সম্পৃক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যার কারণে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
বিমানবন্দরে ১১ ঘণ্টার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আরতানকে একটি আটককক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে আরও কয়েক ঘণ্টা রাখার পর তাঁকে ইস্তাম্বুলগামী একটি বিমানে তুলে দেওয়া হয়। তুরস্কে অবস্থানরত আরতান নিউইয়র্ক টাইমসকে টেলিফোনে বলেন, ‘আমি কেবল একজন রেফারি, যে নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছে—বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। আমার কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ছিল। সঠিক ভিসাও ছিল।’
ফিফা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তে তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, ‘পূর্ববর্তী ফিফা টুর্নামেন্টগুলোর মতোই, কে ভিসা পাবে এবং কে দেশে প্রবেশের অনুমতি পাবে—এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আয়োজক সরকারের হাতে থাকে।’
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন জানায়, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের পর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরিদর্শনের পর দেখা যায়, নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে আরতানকে অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
এদিকে সোমালি সরকার আরতানের বাদ পড়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘আরতান সোমালিয়ার প্রতিভার সেরা প্রতিনিধিদের একজন।’