ফুটবলে তাঁরা অবহেলিত। কোচ পিটার বাটলারের কাছে জাতীয় দলের দরজা তাঁদের জন্য বন্ধ। সেই সাবিনা খাতুনদের হাত ধরে এবার সাফ ফুটসালে শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেন সাবিনা-কৃষ্ণারা।
থাইল্যান্ডের ননথাবুরি হলে আজ ৩ মিনিটে মালদ্বীপ লিড পেয়ে যায় মাসুরা পারভীনের আত্মঘাতী গোলে। মালদ্বীপের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। পিছিয়ে পড়ার পরপরই সাবিনা দূরপাল্লার নিখুঁত ফ্রি-কিকে সমতা ফেরান। পেনাল্টি মিসের হতাশা ঝেড়ে ফেলে কয়েক মিনিট পরই সার্কেলের বাইরে থেকে আবারও ফ্রি-কিক নিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের একচ্ছত্র আধিপত্য।
ম্যাচের ১৯ মিনিটের আগপর্যন্ত মাত্র ৫ মিনিটে ৪টি গোল আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। সাবিনার পাসে কৃষ্ণার গোল এবং কৃষ্ণার পাস থেকে লিপির গোল ছিল দর্শনীয়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই লিপি ও নওশন জাহানের দুই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-১।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দূরপাল্লার বুলেট শটে সাবিনা নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। চতুর্থ গোলও আদায় করে নিতে বেশি সময় নেননি। এরপর গোল উৎসবে যোগ দেন মাতসুশিমা সুমাইয়া ও নীলুফার ইয়াসমিন নীলা। ৩০ মিনিটে লিপি আক্তারও পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক।
শেষ দিকে কৃষ্ণা রানীর দারুণ ফিনিশিং এবং মেহেরুনের অভিষেক গোল ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। ৩৬ মিনিটে ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ালে ১৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। সাবিনার নেতৃত্ব ও লিপির হ্যাটট্রিকে এটি বাংলাদেশের ফুটসাল ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক বিজয়।
৭ দলের টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচ শেষে ৫ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে আসর শেষ করল বাংলাদেশ। সাফের বাইলজ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দলের হাতে তুলে দেওয়া হবে শিরোপা।