বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সমালোচকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, তারা সমালোচনায় এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে টুর্নামেন্টের প্রকৃত সাফল্য ও ইতিবাচক দিকগুলোই দেখতে পাননি।
এক খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘আপনারা ঘৃণা আর সমালোচনায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে, এসব কিছুই দেখতে পাননি। যারা কলম-কাগজের আড়ালে কিংবা পর্দার পেছনে বসে ঘৃণা আর মিথ্যা গুজব ছড়ান, তাদের বলতে চাই—আপনারা যখন বসে আছেন, তখন আমরা ফিফায় সামনের সারিতে থেকে নিরলস পরিশ্রম করছি এবং বিশ্বের সেরা আয়োজন উপহার দিচ্ছি।’
ইনফান্তিনোর দাবি, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে কোনো সহিংসতা বা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, ‘আমরা কোনো সহিংসতা দেখিনি, কোনো ঘটনাও ঘটেনি। শতভাগ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত ছিল। ছিল শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।’
সবশেষ বিশ্বকাপে একাধিক বিতর্ক ছিল। কয়েকটি দেশের সমর্থক ও কর্মকর্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, সংঘাতকবলিত অঞ্চল থেকে অংশ নেওয়া দলগুলোর পরিস্থিতি এবং ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের পর স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই সিদ্ধান্ত আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচে রেফারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্তও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ইনফান্তিনো চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর দাবি, রেফারিং বা শৃঙ্খলাজনিত যেসব সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, সেগুলো বিশ্বের বড় বড় ফুটবল লিগেও নিয়মিত দেখা যায়।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘ভুলবশত লাল বা হলুদ কার্ড দেখানো, কিংবা কিছু পরিস্থিতিতে পরে খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ না করার মতো সিদ্ধান্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় লিগগুলোতেও নিয়মিত ঘটে এবং সেগুলো গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।’
সমালোচনাকারী দেশগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে ইনফান্তিনো বলেন, ‘মজার বিষয় হলো, নিজেদের প্রতিযোগিতায় এসব পদ্ধতি ব্যবহার করা দেশগুলিই আবার এগুলোর সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করছে।’