লিওনেল মেসির গোল দেখতে অপেক্ষা করে ছিলেন প্যারিসবাসী। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে সেই অপেক্ষা দূর করলেন মেসি।
আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসির প্রথম গোলের রাতে ঘরের মাঠে পিএসজির জয় ২-০ গোলে। অন্য গোলটি করেন ইদ্রিসা গুয়ে।
এই জয়ে সিটির কাছে গতবারের সেমিফাইনালে হারের কষ্ট কিছুটাও হলেও ভুলল পিএসজি। সেই সঙ্গে এই ম্যাচে গোল করে গুরু পেপ গার্দিওলাকেও যেন উপেক্ষার জবাব দিলেন মেসি। বার্সেলোনা ছাড়ার পর শুরুতে মেসির সিটিতে যাওয়ার গুঞ্জন ছিল। কিন্তু মেসিকে নিয়ে সে সময় আগ্রহ দেখাননি গার্দিওলা। মেসির এই গোল প্যারিস সমর্থকদের জন্য স্বস্তিরও। বিশেষ করে এমএনএম ত্রিফলার এক সঙ্গে জ্বলে ওঠা প্যারিসবাসীকে সুসংবাদই দিচ্ছে।
আক্রমণ প্রতি আক্রমণে এদিন শুরু থেকেই জমে ওঠে লড়াই। পাল্টাপাল্টি আক্রমণে গিয়ে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছিল দুই দলই। তবে ম্যাচের নয় মিনিটে প্রথম বাজিমাত করে পিএসজি। ডি বক্সের ভেতরে বল পেয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন গুয়ে। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে আক্রমণের ধার বাড়ায় সিটি। সংগঠিত এক আক্রমণে একাধিকবার বল পোস্টে না লাগলে ২৬ মিনিটেই সমতা ফেরাতে পারত অতিথি সিটি। ৩৮ মিনিটে দারুণ আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে পিএসজি। কিন্তু গোলরক্ষকের দক্ষতায় বেঁচে যায় সিটি। ৪৩ মিনিটে কাছাকাছি গিয়েও গোল পায়নি সিটি।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ প্রতি আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তোলে দুইদল। তবে সুযোগ তৈরিতে সিটিই বেশি এগিয়ে ছিল। যদিও বেশিরভাগ আক্রমণ পিএসজি ডিফেন্সে গিয়ে আটকে যায়।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে প্যারিসে আনন্দের উপলক্ষ নিয়ে আসেন মেসি। এমবাপ্পের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে ডি বক্সের কাছাকাছি জায়গা থেকে দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর চেষ্টা করেও আর ব্যবধান কমাতে পারেনি সিটি।
একই রাতে পোর্তোর মাঠে গোল উৎসবে মাতে লিভারপুল। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লিভারপুলের জয় ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে। জোড়া গোল করেছেন মোহামেদ সালাহ ও রবার্তো ফিরমিনো। তবে চমক জাগানো নবাগত দল শেরিফ তিরাসপুলের কাছে হেরে অঘটনের শিকার হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মলডোভার ক্লাবটির কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে ইউরোপের সফলতম দল রিয়াল। আরেক ম্যাচে যোগ করা সময়ে লুইস সুয়ারেজের গোলে এসি মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।