পুরো আর্সেনাল দলটাই বোধ হয় ঘাবড়ে গিয়েছিল! মাঠে নামার আগে নিজ সমর্থকেরাই যখন গালমন্দ করে, তখন কোন দল স্বস্তিতে থাকে?
এটিই কঠিন সত্য, পরশু এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনাল খেলতে নেমেছে হাজার সমর্থকের দুয়ো শুনতে শুনতে। সেটাই বোধ হয় চাপে ফেলে দিয়েছিল, নাহলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শিশুতোষ ভুল করবেন কেন গোলরক্ষক বার্নড লেনো?
আর্সেনাল অবশ্য চাপে আছে গত কয়েক মৌসুম। আর্সেন ওয়েঙ্গারের শেষ কয়েকটি মৌসুম থেকে উনাই এমেরি হয়ে এখন মিকেল আর্তেতার যুগে কিছুতেই নিজেদের সোনালি অতীতে ফিরতে পারছে না গানাররা। মাঠের খেলায় বাজে পারফরম্যান্স তবু সহ্য করেছেন সমর্থকেরা। তবে ক্ষোভের ছাই চাপা আগুনটা উসকে দিয়েছে ‘ইউরোপিয়ান সুপার লিগ’।
মাঠে ধুঁকলেও আর্সেনাল এখনো কাগজে-কলমে প্রিমিয়ার লিগের ‘বিগ সিক্সে’র অংশ। বাকি পাঁচ দলের সঙ্গে বিদ্রোহী সুপার লিগে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে মত দেন ক্লাবের আমেরিকান মালিক স্টান ক্রোয়েনকে। ব্যবসায়ী বলে হয়তো অর্থে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন স্টান। কিন্তু সমর্থকেরাও বুঝিয়ে দিলেন দিন শেষে ‘আর্সেনাল’ তাদের কাছে এক আবেগ-ভালোবাসার নাম।
সমর্থকদের চাপে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ থেকে সরে এলেও রেহাই মেলেনি। গত পরশু এভারটন ম্যাচের আগে এমিরেটসের বাইরে হাজির হাজারের বেশি সমর্থক। স্টেডিয়ামের বাইরের বিক্ষোভের প্রভাবটা পড়ল খেলার মাঠেও। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের একধাপ ওপরে থাকা এভারটনকে ঠেকিয়ে রেখেছিল আর্সেনাল। কিন্তু গুবলেট পাকিয়ে বসলেন বার্নড লেনো। ৭৬ মিনিটে প্রতিপক্ষ উইঙ্গার রিচার্লিসনের নিরীহ দর্শন এক শট পায়ের ফাঁক দিয়ে নিয়ে জালেই জড়ালেন গানারদের জার্মান গোলরক্ষক।