যেখানেই বল, সেখানেই মার্ক কুকুরেয়া—২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ব্যাপারটা ছিল এমনই। রক্ষণভাগ তো দারুণভাবে সামলেছেনই, কখনো কখনো তিনি উঠে এসেছেন আক্রমণভাগে। তবে ঝাঁকড়া চুলের এই তারকা ফুটবলারের যে এক দুঃখের ঘটনা আছে, সেটা কজনইবা জানেন? সে ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন কুকুরেয়া।
এবারের বিশ্বকাপে কুকুরেয়ার ঝাঁকড়া চুল দেখে অনেকেরই এটা নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। লা মিডিয়া ইংলেসা নামের এক সংবাদমাধ্যমের ‘ম্যারিড টু দ্য গেম’ প্রামাণ্যচিত্রে এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। তাঁর ছেলে মাতেও অটিজমে আক্রান্ত বলে তিনি এ রকম ঝাঁকড়া চুল রাখতেন। যাতে ছেলে মাঠে দেখলে তাঁকে সহজে চিনতে পারে। বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে।
ম্যারিড টু দ্য গেম প্রামাণ্যচিত্রে কথা বলতে গিয়ে কুকুরেয়া জানিয়েছেন, ছেলে মাতেও অন্য বাচ্চাদের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম উপায়ে বেড়ে উঠছে। মাতেও যখন এক সাধারণ স্কুলে ভর্তি হয়, তখন এই প্রতিকূলতাগুলো বিশেষভাবে প্রকট হয়ে ওঠে। তাঁর ছেলে প্রায়ই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরত। কখনো কখনো স্কুলে মাত্র কয়েক ঘণ্টা থাকার পরই তাকে (মাতেও) নিয়ে আসতে হতো। ‘যখন আমরা মাতেওর কথা বলি’—কথাটা শুরু করতে না করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সন্তানের অটিজম ধরা পড়ার পর যে সমস্ত প্রতিকূলতা আসতে পারে, সেটার জন্য বাবা-মায়েরা প্রায়ই অপ্রস্তুত থাকেন। ম্যারিড টু দ্য গেম প্রামাণ্যচিত্রে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কুকুরেয়া বলেন, ‘ঠিক আছে আপনার সন্তান অটিস্টিক, কিন্তু বাবা-মায়েরা এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। আমাদের সবকিছু একেবারে গোড়া থেকে শিখতে হয়েছে।’
কুকুরেয়ার সঙ্গিনী ক্লদিয়া রদ্রিগেজও স্মরণ করেছেন, ছেলে মাতেওকে নিয়ে কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের। তিনিও (রদ্রিগেজ) ম্যারিড টু দ্য গেম প্রামাণ্যচিত্রে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, ‘আমরা সকালে মাতেওকে স্কুলে নিয়ে যেতাম। তাকে বিচলিত দেখে আমরা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরতাম।’
কুকুরেয়া যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছেন। গত বছর পিএসজিকে হারিয়ে চেলসি জিতেছিল ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা। চেলসির শিরোপা জয় মাঠ থেকে উদ্যাপন করেছিলেন কুকুরেয়া। চলতি বছরের ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার।