বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ১৩৯ ম্যাচ খেলা এই ফুটবলারের বিদায়ে বিশেষে বার্তা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওতামেন্দির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রশংসা করে ইনফান্তিনো লেখেন, ‘অভিনন্দন নিকোলাস ওতামেন্দি, আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসাধারণ এক ক্যারিয়ারের জন্য। ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপজয়ী, ২০২৬ সালে আবারও ফাইনালিস্ট এবং আর্জেন্টিনার হয়ে ১৩৯ ম্যাচ খেলে দেশের সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলারদের একজন তুমি। তোমার নেতৃত্ব ও দৃঢ়তা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এক অসাধারণ যুগ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
ওতামেন্দির পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন ইনফান্তিনো, ‘আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য রইল শুভকামনা।’
বিশ্বকাপ শেষে রিভার প্লেটে যোগ দেওয়ার আগে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন এক ভিডিও প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন ওতামেন্দি। যদিও উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ চলাকালেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, টুর্নামেন্ট শেষে আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামবেন না তিনি।
বিদায়ী বার্তায় ওতামেন্দি বলেন, ‘আমাকে আমার পুরো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন কথাগুলো লিখতে হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন দেখতাম। ফুটবল আমাকে যে সবচেয়ে বড় সম্মান দিয়েছে, সেটিই ছিল এই জার্সি পরার সুযোগ। আমি এই জার্সিকে প্রাণ দিয়ে, গর্বের সঙ্গে এবং কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের অনুভূতির কথা মাথায় রেখে রক্ষা করেছি।’
বিশ্বকাপ ফাইনালকে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ হিসেবে উল্লেখ করে ওতামেন্দি বলেন, ‘এটা আমাদের প্রত্যাশিত ফল ছিল না। কিন্তু মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি, কারণ জানি এই দল শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। আমি শান্তি নিয়েই বিদায় নিচ্ছি, কারণ মাঠে কখনও একটুও কম দিইনি, কখনও বিশ্বাস হারাইনি এবং কখনও এই জার্সিকে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে দেখা বন্ধ করিনি।’
বিদায়ী বার্তায় সতীর্থদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন ওতামেন্দি, ‘কখনো বিশ্বাস হারাবে না। এমন সময় আসবে, যখন সবকিছু অসম্ভব মনে হবে। কিন্তু এই জার্সি সবসময় তাদেরই পুরস্কৃত করে, যারা বিনয়, ত্যাগ আর ভালোবাসা দিয়ে এটিকে রক্ষা করে। একটি পরাজয় যেন কখনও তোমাদের আশা কেড়ে নিতে না পারে। আমি নিশ্চিত, আমাদের গল্পের পরবর্তী অধ্যায় তোমরাই লিখবে।’
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওতামেন্দি বলেন, ‘নিঃশর্ত ভালোবাসা, প্রতিটি পতাকা, প্রতিটি গান এবং ভালো-মন্দ সব সময়ে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। জাতীয় সংগীত বাজলে তোমরাই আমাদের অনুভব করিয়েছ, আমরা শুধু ১১ জন খেলোয়াড় নই; একই স্বপ্নের জন্য লড়াই করা কোটি মানুষের প্রতিনিধি।’