হালকা চোটের অস্বস্তি ছিল, তবে মাঠে ফেরার জন্য মুখিয়ে ছিলেন লিওনেল মেসি। ফেরার মঞ্চটা তিনি রাঙালেন দারুণভাবেই। পেনাল্টি থেকে গোল পেলেন, গড়লেন ইতিহাসও। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের মিশন শুরুর আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই জয়ে বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসটা আরও বাড়িয়ে নিল লিওনেল স্কালোনির দল।
আলাবামার অবার্ন ইউনিভার্সিটির জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। মাঠে নামার ঠিক ১১৯ সেকেন্ডের মাথায় পেনাল্টি থেকে দৃষ্টিনন্দন এক ফিনিশিংয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তাঁর ১১৭তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে আনহেল লাব্রুনার ৬৯ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে মেসি এখন আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা। এর আগে রোকা কাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন ‘এল ফিও’খ্যাত লাব্রুনা।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপকালে মেসি নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। মাঠে ফেরার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই দারুণ উপভোগ করছি। এখানে আসার পর থেকে একটু অস্বস্তি ভোগাচ্ছিল, তবে আমি খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। মাঠে নেমে খুব ভালো লেগেছে। খেলার জন্য তীব্র ইচ্ছা ছিল, যাতে ইনজুরির ভয়টা কেটে যায় এবং মন খুলে খেলতে পারি। বিশ্বকাপ অভিষেকের আগে সবাইকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে আমাদের হাতে আরও এক সপ্তাহ সময় আছে।’
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ও দলের মানসিকতা নিয়ে মেসি বলেন, ‘যেকোনো টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমরা খুব রোমাঞ্চিত থাকি। আমি আগেও বলেছিলাম, এই দলটা কাউকে হতাশ করবে না। তারা সেটি প্রমাণ করেছে। যেকোনো প্রতিপক্ষ বা টুর্নামেন্টে তারা সমান ইচ্ছা ও উদ্দীপনা নিয়ে লড়াই করে। এটি একটি বিজয়ী দল, যারা সব সময় আরও বেশি কিছু চায়। আমরা বরাবরের মতোই ধাপে ধাপে এগোব, তবে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আমাদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে।’
দলের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে প্রতিপক্ষকে একরকম সতর্কবার্তাই দিয়ে রাখলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘এই দলটা আজ যে অবস্থানে আছে, তার প্রতিটি ইঞ্চি তারা নিজেদের যোগ্যতায় অর্জন করেছে। আমরা সব সময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি, যেমনটা আমি জাতীয় দলে আসার পর থেকে করে আসছি। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। তবে আমরা জয়ের যে অভ্যাস গড়ে তুলেছি, তার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করব। দিন শেষে এটা ফুটবল। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত থাকুন, আমাদের হারানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই অনেক কঠিন হবে। কারণ, আমরা ভীষণ লড়াকু এক দল।’
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের কিছু ছবি পোস্ট করে ভক্তদেরও তাতিয়ে দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের জন্য একটি আশাবাদী বার্তা দিয়ে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘এগিয়ে চলো আগের চেয়েও আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে।’