বসুন্ধরা কিংসের শিরোপা উৎসব যেন নিয়মিত ছবি হয়ে উঠেছে ঘরোয়া ফুটবলে। গত পাঁচ মৌসুম তারাই টানা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবারও কি তাদের দাপট নাকি নতুন কোনো চমক অপেক্ষা করছে?
আজ থেকে শুরু প্রিমিয়ার লিগের ১৭তম আসর। একেক দল একেক রকম লক্ষ্য। কারও কাছে অংশ নেওয়া বড়। আবার কারও আশা, শুধুই টিকে থাকা। এর বাইরে আবার ফেবারিটরা ছুটবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে। ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাব—আবাহনী ও মোহামেডান থাকবে সেই দৌড়ে। এবার তারা খুব করে চাইছে কিংসের রাজ্যে হানা দিতে।
২০১৩ সাল থেকে দেশের ফুটবলে পথচলা শুরু বসুন্ধরা কিংসের। এক দশকেই তারা এই অঙ্গনে নিজেদের দাপট প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রিমিয়ার লিগ, ফেডারেশন কাপে নিয়মিত চলছে কিংস ঝলক। এবারও একই পথ ধরে এগোতে চায় দলটি। প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী দিনে আজ তাদের প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম আবাহনী। শক্তিমত্তায় দুই দলের পার্থক্য অনেক। তবে কিংসের পথে কাঁটা হতে পারে ফর্টিস আর আবাহনী। সঙ্গে মোহামেডানের নামটাও বলা যেতে পারে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফুটবলসহ সব খেলায় নামে স্থবিরতা। দল গড়তে পারেনি শেখ রাসেল ও শেখ জামাল। জোড়াতালি দিয়ে একটা দল দাঁড় করিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী। বাকিদের মধ্যে ঢাকা আবাহনীও বিদেশিশূন্য। সেদিক থেকে কিংসের পর ফর্টিসকে এগিয়ে রাখা যায়। দুই দলের বিদেশিদের সঙ্গে স্থানীয় ফুটবলাররাও আছেন ছন্দে। কিংসের আছে রাকিব, ফাহিম আর রবসনদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ। যেখানে ফর্টিসের হয়ে দ্যুতি ছড়াতে পারেন রনি, ওমর আর বোরহান।
কোচ মারুফুল হকের অধীনে আবাহনীর মিতুল-হৃদয়রাও পুরোপুরি প্রস্তুত। অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও মোহামেডানের সমর্থকেরা দিয়াবাতে-সানডের জাদু দেখার অপেক্ষায়। যদিও মৌসুমের প্রথম লড়াই চ্যালেঞ্জ কাপে কিংসের সঙ্গে কুলিয়ে ওঠেনি দলটি। সেই এক হারেই যে সব শেষ হয়ে যায়নি, বরং হার থেকে শিক্ষা নিয়ে পুরো মৌসুমে দারুণ কিছু করতে চায় দলটি। মোহামেডানের টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব বলেন, ‘কিংসের সঙ্গে ম্যাচটা জিততে পারতাম। প্রথমার্ধও ভালো হয়েছিল। কিন্তু তাদের দর্শকেরা ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করে দেয়। তাতে আমরা হতাশ নই। ওই হার থেকে সবাই শিক্ষা নিয়েছে।’