লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড—গত রাত থেকে এ কী শুরু করেছেন তাঁরা! একজনের যেখানে শেষ আরেকজনের সেখানে শুরু। ২ সংখ্যাটিই তিন জনকে মিলিয়ে দিয়েছে এক বিন্দুতে। মেসি, এমবাপ্পের পর হালান্ডের পায়ের জাদুও দেখেছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।
ফিলাডেলফিয়ায় মাঝরাতে শুরু হওয়া ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ বজ্রঝড়ের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এই ম্যাচের মাঝেই নিউজার্সিতে মাঠে নেমে গেছে নরওয়ে-সেনেগাল। বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হালান্ড করেছেন জোড়া গোল। তাঁর জোড়া গোলের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়েও। কিছুক্ষণ আগে ‘আই’ গ্রুপের আরেক দল ফ্রান্স নিশ্চিত করেছে নকআউটের টিকিট।
নিউইয়র্কে আজ শুরু থেকেই চলতে থাকে নরওয়ে-সেনেগালের আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের খেলা। ৩ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। জুলিয়ান রিয়ারসনের ক্রস রিসিভ করে হেড দিয়েছিলেন ক্রিস্টোফার ভাসবাক আজার। কিন্তু সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার মঁদি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। ১৪ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ড গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি।
গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে সেনেগালও। আফ্রিকার দলটির ফিনিশিংয়ে যেমন দুর্বলতা দেখা গেছে, পাশাপাশি নরওয়ে গোলরক্ষক ওরিয়ান হাসকিয়োল্ড নাইল্যান্ডও নিশ্চিত কিছু গোল বাঁচিয়েছেন। সুযোগ মিসের মহড়ায় প্রথম গোল করে নরওয়ে। ৪৩ মিনিটে নরওয়েজীয় ডিফেন্ডার মার্কাস হোল্মগ্রেন পেদারসেন ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে খেলা আরও জমে ওঠে। সেনেগালের ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার গোলের চেষ্টা করলেও নরওয়ে গোলরক্ষক নাইল্যান্ড প্রতিহত করেছেন। হালান্ডও গোল করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর আক্রমণ ঠেকিয়েছেন সেনেগাল গোলরক্ষক মঁদি। প্রথমার্ধ নরওয়ে শেষ করে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় নরওয়ে। ৪৮ মিনিটে ওডেগার্ডের অ্যাসিস্টে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন হালান্ড। দ্রুতই ব্যবধান কমায় সেনেগাল। ৫৩ মিনিটে সাদিও মানের অ্যাসিস্টে গোল করেন সার। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের খেলায় গোল হয়েছে নিয়মিত বিরতিতেই। ৫৮ মিনিটে হালান্ড করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। বিশ্বকাপে এটা তাঁর চতুর্থ গোল। এবার তাঁকে গোল করতে সহায়তা করেছেন মিডফিল্ডার প্যাট্রিক বার্গ।
৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ে সার করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। এটা সেনেগালেরও দ্বিতীয় গোল। নিকোলাস জ্যাকসনের অ্যাসিস্টে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন সার। এই গোল শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাকের উল্লাস বলে দিচ্ছিল সবকিছু। কারণ, ৩-২ গোলের জয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে এসে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ইউরোপের এই দল।
‘আই’ গ্রুপের ফ্রান্স, সেনেগাল দুই দলেরই পয়েন্ট ৬। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে ফ্রান্স। দুইয়ে অবস্থান করছে সেনেগাল। ২৬ জুন বোস্টনে নরওয়ে-ফ্রান্স ম্যাচ দিয়েই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে। আর তিন ও চারে থাকা সেনেগাল, ইরাক দুই দলেরই পয়েন্ট এখন শূন্য।