ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। অথচ বড় সংগ্রহ তুলতে হিমশিম খেল শ্রীলঙ্কা। শেষ দিকে কামিন্দু মেন্ডিসের ঝড়ে লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকেরা। একসময় কোণঠাসা হয়ে পড়লেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৬৩ রানে থামে তারা। প্রথম ইনিংসেই বাজে এক রেকর্ডে নাম উঠে গেল শ্রীলঙ্কার এক ক্রিকেটারের।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আজ কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এক বাজে রেকর্ডে নাম উঠে গেল শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ১৬ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার লজ্জাজনক কীর্তি এখন লঙ্কান অলরাউন্ডার। এই তালিকায় দুই ও তিনে আছেন রুয়ান্ডার জ্যাপি বিমেনিমানা ও আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং। জ্যাপি ও স্টার্লিং ১৫ ও ১৪ ডাক মেরেছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে। জ্যাপি তেমন একটা পরিচিত ক্রিকেটার না হলেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এরই মধ্যে ১০০ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।
কলম্বোতে আজ টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া শ্রীলঙ্কার শুরুটা ছিল নড়বড়ে। ওপেনার কামিল মিশারা ১৪ রান করে আউট হওয়ার আগে দুবার জীবন পান। কিন্তু পাওয়ারপ্লের পরেই শুরু হয় আয়ারল্যান্ডের স্পিন দাপট। জর্জ ডকরেল ও গ্যারেথ ডিল্যানির বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে লঙ্কান ব্যাটাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে ইনিংসের সপ্তম ওভার থেকে ১৫তম ওভার পর্যন্ত টানা ৫৬ বলে কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ডকরেল তাঁর ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে আইরিশদের চালকের আসনে বসিয়েছিলেন।
১৪ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৮৭, যা দেখে মনে হচ্ছিল ১৫০ রান ছোঁয়াই কঠিন হবে।কিন্তু ১৬তম ওভার থেকে ম্যাচের চিত্রপট পুরোপুরি বদলে যায়। কামিন্দু মেন্ডিস ক্রিজে এসেই রিভার্স পুলে বাউন্ডারি মেরে দীর্ঘ খরা কাটান। ম্যাথু হামফ্রিসের ১৭তম ওভারে আইরিশ ফিল্ডাররা একের পর এক তিনটি ক্যাচ মিস করে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরার লাইফলাইন উপহার দেন। বিশেষ করে ডকরেল ও ম্যাকার্থির মতো অভিজ্ঞ ফিল্ডারদের ক্যাচ ফেলার খেসারত দিতে হয় বড় অঙ্কে। জীবন ফিরে পেয়ে কামিন্দু মাত্র ১৯ বলে ৪৪ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৪টি চার ও ৩টি বিশাল ছক্কা। অন্য প্রান্তে কুসল মেন্ডিস ৪৩ বলে ৫৬ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের ভিত্তি মজবুত করেন।
ইনিংসের ১৯তম ওভারে ১১ বল করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে দীর্ঘতম ওভার করার রেকর্ড গড়েন ব্যারি ম্যাকার্থি। নো বল, বিমার আর ওয়াইডের ছড়াছড়িতে ১১ বলের সেই ওভারে তিনি ১৯ রান খরচ করেন। সেই ওভারের পঞ্চম বলে শানাকাকে ফিরিয়েছেন ম্যাকার্থি। গোল্ডেন ডাক মেরেই মূলত বিব্রতকর রেকর্ডে নাম উঠে গেছে শানাকার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউট হওয়ার কীর্তি
১৬ দাসুন শানাকা (শ্রীলঙ্কা)
১৫ জ্যাপি বিমেনিমানা (রুয়ান্ডা)
১৪ পল স্টার্লিং (আয়ারল্যান্ড)