রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হোম ভেন্যু এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের পরিবর্তে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুমের ফাইনাল হবে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে—বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে দিন দুয়েক আগেই। এবার জানা গেল, কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (কেএসসিএ) অতিরিক্ত টিকিটের চাহিদার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।
আইপিএলের গত মৌসুমের শিরোপা জিতেছিল বেঙ্গালুরু। তাই নিয়ম বলছে, টুর্নামেন্টির এবারের মৌসুমের ফাইনাল হবে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। বিরাট কোহলিদের এই হোম ভেন্যুটির দর্শক ধারণক্ষমতা ৩৫ হাজার। আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমালের বরাতে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, কেএসসিএর জন্য আগে থেকেই মোট আসনের ১৫ শতাংশ সৌজন্য টিকিট বরাদ্দ ছিল। কিন্তু এর বাইরে আরও ১০,০৫৭টি অতিরিক্ত টিকিট দাবি করে সংস্থাটি।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সূত্র জানায়, কর্ণাটক রাজ্যের এমএলএ ও এমএলসিদের জন্য প্রায় ৯০০টি পাস প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন কমিটি, বিশেষ অতিথি ও আতিথেয়তা খাতেও অতিরিক্ত শত শত টিকিট বরাদ্দের প্রয়োজন হয়। ফলে সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিটের সংখ্যা নেমে আসত মাত্র ২০ হাজারে, যা আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টের জন্য খুবই কম বলে মনে করছে বিসিসিআই। সিদ্ধান্ত বদলে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।
পিটিআইকে সূত্র বলেছে, ‘কেএসসিএ স্টেডিয়ামের মোট আসনসংখ্যার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনামূল্যের টিকিট পাওয়ার অধিকার রাখে। তবে তারা অতিরিক্ত ১০ হাজার ৫৭টি টিকিট চেয়েছিল। কেএসসিএ প্রায় ৯০০টি পাসের মাধ্যমে প্রতিটি এমএলএ ও এমএলসিকে তিনটি করে বিনামূল্যের পাস দিতে রাজি হয়েছিল। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং কর্ণাটক সরকারের অতিরিক্ত অঙ্গীকার পূরণে নির্ধারিত ১৫ শতাংশের বাইরেও আরও ৭৫০টি কমপ্লিমেন্টারি টিকিট ও সীমিতসংখ্যক আতিথেয়তা পাসের প্রয়োজন হতো।’
সূত্রের বরাতে পিটিআই আরও লেখেছে, ‘এর মধ্যে ছিল ক্রিকেট খেলা ক্লাবগুলোর জন্য পি-৩ স্ট্যান্ডে ৩,০০৭টি টিকিট, যার প্রতিটির মূল্য রাখা হয়েছিল ২ হাজার রুপি। এছাড়া সদস্যদের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য মেম্বার্স স্ট্যান্ডে আরও ৯০০টি টিকিট চাওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অ্যাসোসিয়েশন এম-৪ স্ট্যান্ডে গড়ে ২ হাজার রুপি দামে আরও ১,০০০টি টিকিট কিনতে চেয়েছিল এবং বিভিন্ন স্ট্যান্ডে লাইফ মেম্বারদের জন্য আরও ৩,৫০০টি টিকিট কেনার পরিকল্পনা ছিল।’
আইপিএল ফাইনাল স্থানান্তর প্রসঙ্গে ধুমাল বলেন, ‘চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা খুব বেশি নয়। লিগ ম্যাচগুলোর সময়ও সেখানে খুব কম টিকিট পাওয়া গিয়েছিল। আইপিএলের ফাইনালে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শক আসেন, তাই সমর্থকদের জন্য আরও বড় টিকিট সংখ্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’