জেতার জন্য রেকর্ড গড়তে হতো রংপুর রাইডার্সকে। ২৩৮ রান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জয়ের জন্য ফরচুন বরিশালের করা এই রান তাড়ায় ছিল রংপুরের লক্ষ্য। এ জন্য বিপিএলের সর্বোচ্চ স্কোর ২৩৯ করা লাগত শোয়েব মালিকের দলের।
বরিশালের বোলারদের দায়িত্বশীল বোলিংয়ে ৯ উইকেটে ১৭১ রানের বেশি করতে পারেনি রংপুর। নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে বরিশালের কাছে ৬৭ রানে হেরে গেছে রংপুর। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়েই থাকল সাকিবের দল। ৪ পয়েন্ট নিয়ে চারে রংপুর।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় বড় ইনিংস খেলতে পারেননি রংপুরের ব্যাটাররা। মোহাম্মদ নেওয়াজ ৩৩, মোহাম্মদ নাঈম ৩১ এবং ২৪ বলের সর্বোচ্চ ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন শামীম হোসেন। দলের জয়ের জন্য যা যথেষ্ট ছিল না। বরিশালের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি এবং ইমাদ ওয়াসিম ও কামরুল ইসলাম রাব্বি ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে সমর্থকদের শীতের তীব্রতা অনুভব করতে দেননি সাকিব ও ইফতিখার আহমেদ। বারবার বল বাউন্ডারি ছাড়া করে সমর্থকদের মাতিয়ে গা-গরম করে রাখেন বরিশালের পুরো ইনিংসজুড়ে। শুরুতে ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তারা। এই পরিস্থিতিতে সচরাচর রয়ে-সয়ে খেলার বাইরে গিয়ে সাকিব-ইফতিখার চালিয়েছেন ব্যাটিং তাণ্ডব।
৪৫ বলে ইফতিখার খেলেছেন ১০০ রানের ইনিংস। যা টি-টোয়েন্টিতে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। এই বিপিএলে এখন পর্যন্ত তিনটি সেঞ্চুরি হয়েছে। সবগুলোই করেছেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। আজম খান, উসমান খানের পর করলেন ইফতিখার। তাঁদের প্রত্যেকেরই ছিল টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরি। ইফতিখারের ইনিংসে ছিল ৯টি ছয় ও ৬টি চার।
৪৩ বলে ৮৯ রান করেছেন সাকিব। বরিশালের অধিনায়কের ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৬টি ছক্কা। ৮৬ বলে ১৯২ রানের জুটি গড়েন দুজনে। দুজনই থাকেন অপরাজিত। এতে বরিশাল ৪ উইকেটে ২৩৮ রানের বড় সংগ্রহ পায়। এখন পর্যন্ত এই বিপিএলের সর্বোচ্চ স্কোর এটি। সাকিব-ইফতেখার ঝড় অসহায় দৃষ্টিতে দেখা ছাড়া, নিজেদের রক্ষা করার কোনো উপায় খুঁজে পায়নি রংপুরের বোলাররা।
বিপিএলের পঞ্চম উইকেটে এটি এখন সর্বোচ্চ রানের জুটি। সব উইকেট মিলিয়ে তৃতীয়। বিপিএলের সর্বোচ্চ রানের জুটি ২০১ রান। ২০১৭ সালের বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এই জুটি গড়েছিলেন। বিপিএলে দলীয় যৌথ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরও এটি। ২০১৯ সালের বিপিএলে রংপুর সর্বোচ্চ ২৩৯ রান করেছিল। একই টুর্নামেন্টে ২৩৮ করেছিল চট্টগ্রাম। বরিশালের ইনিংসে ছিল ১৯টি ছক্কা ও ১৬টি চার।