ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার যেন শেষ নেই। নতুন করে এই দ্বৈরথের আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে নো হ্যান্ডশেক ইস্যু। বিষয়টি নিয়ে সবশেষ এশিয়া কাপে কম বিতর্ক হয়নি। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই প্রতিবেশীর লড়াইয়ের আগে এই বিতর্ক উসকে দিলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার হরভজন সিং।
আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত সবশেষ এশিয়া কাপে তিনবার মাঠে গড়িয়েছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। কোনোবারই দুই দলের খেলোয়াড়েরা হাত মেলাননি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইয়ের আগেও এই ইস্যুতে কোনো আশার খবর নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে টসের সময় সালমান আলী আগার সঙ্গে সূর্যকুমার যাদবের হাত না মেলানোর সম্ভাবনাই বেশি। ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনেও গতকাল হ্যান্ডশেক ইস্যুতে সরাসরি কিছু বলেননি দুই দলের অধিনায়ক। হরভজনের মতে, ম্যাচে হাত মেলানো হবে–এমনটা কোথাও লেখা নেই।
বার্তা সংস্থা পিটিআইকে হরভজন বলেন, ‘এটা (হাত মেলানো না মেলানো) পুরোপুরি খেলোয়াড়দের ইচ্ছার বিষয়। কোথাও লেখা নেই যে ম্যাচের পর অবশ্যই হ্যান্ডশেক বা আলিঙ্গন করতে হবে। ম্যাচ খেলুক, পুরো শক্তি দিয়ে খেলুন। তারপর যদি মনে হয়, হ্যান্ডশেক বা আলিঙ্গন করা উচিত, তাহলে করবেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের দেখুন, তারা ম্যাচের পর একসঙ্গে বসে। ক্রিকেটকে ক্রিকেট হিসেবেই দেখা উচিত।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের আট দেখার সাতটিতেই জিতেছে ভারত। এবারও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা দারুণ কিছু করবে বলেই বিশ্বাস হরভজনের, ‘এই ম্যাচ হবে কি না, তা নিয়ে অনেক বাধা ছিল। কিন্তু এখন আর কোনো বাধা নেই। এখন মনোযোগ থাকা উচিত ক্রিকেটের দিকে, কারণ সেটাই মূল বিষয়। আমি অবশ্যই আশা করি, ভারত এই ম্যাচে ভালো খেলবে।’
পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের প্রশংসা করেছেন হরভজন। বিশেষ করে উসমান তারিককে নিয়ে সূর্য, অভিষেকদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি, ‘পাকিস্তানও খুব শক্তিশালী দল, বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে তাদের স্পিনাররা খুব ভালো বোলিং করছে। আমি উসমান তারিককে আইএল টি-টোয়েন্টিতে বোলিং করতে দেখেছি, সেখানে সে ছিল সেরা বোলারদের একজন। যখনই সে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছে, তখনই সে ম্যাচসেরা হয়েছে। অন্য স্পিনারদের থেকে সে আলাদা এবং তার অনেক রকম বৈচিত্র্য রয়েছে। আমার মনে হয়, এটি দেখার মতো দারুণ একটি ম্যাচ হবে।’
হরভজনের আশা, উইকেট থেকে স্পিনার-পেসাররা সমান সহায়তা পাবে, ‘আমরা আশা করি, এমন একটি পিচ হবে, যেখানে ব্যাটাররাও ভালো করবে এবং পেসার ও স্পিনারদের জন্যও সামান্য সাহায্য থাকবে। ব্যাট ও বলের লড়াই থাকাটা খুবই জরুরি।’