এলাম, দেখলাম, জয় করলাম—মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের কাছে আজ ব্যাপারটা এমনই। বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ না হলেও তাঁর কাছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেটা প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও।
২০২২ সালে অ্যাডিলেডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর সাড়ে তিন বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগই পাননি তিনি। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জিতলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। ছয় নম্বরে নেমে ৭০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৩৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। এক ওভার মেডেনও দিয়েছেন।
বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়াকে আজ ৮৬ রানে হারিয়ে তাদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ২১ বছর পর জিতল বাংলাদেশ। আর মোসাদ্দেক সাড়ে তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পেয়ে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন। তাঁর কাছে এই প্রত্যাবর্তন অভিষেক ম্যাচের মতোই। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ৩০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বলেন, ‘অনুভূতিটা ঠিক সেই রকমই ছিল, যেমনটা প্রথমবার জাতীয় দলে অভিষেকের জন্য ডাক পাওয়ার সময় ছিল। আলহামদুলিল্লাহ সুযোগ পেয়েছি এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছি।’
মোসাদ্দেক যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ২৫.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪০ রান। পঞ্চম উইকেটে ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়েন মোসাদ্দেক ও তাওহীদ হৃদয়। অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাতের সুযোগে ২১ রানে বেঁচে যাওয়া মোসাদ্দেক ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। ক্রিকেটীয় ব্যাকরণ মেনে শট যেমন খেলেছেন, করেছেন রিভার্স স্কুপও। খেলার ধরন সম্পর্কে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা যখন ব্যাটিং করছিলাম, তখন পরিস্থিতি সহজ ছিল না। উইকেটটি ৩০০-৩২০ রানের মতো ছিল। কিন্তু আমরা দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে ফেলি। তখন নিজের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। প্রিমিয়ার লিগে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছি। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে এবং সফল হওয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’
সাড়ে তিন বছর পর ফিরে ম্যাচসেরা মোসাদ্দেককে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘মোসাদ্দেকের জন্য সময়টা কঠিন ছিল। কারণ, সে দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেছে। কিন্তু ফিরে এসে যেভাবে পারফর্ম করেছে, তা অসাধারণ। আমার মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভালো পারফর্ম করতে হয়।’
বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের হাতছানি। পরশু মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। ১৪ জুন হবে তৃতীয় ওয়ানডে। এরপর দুই দল চলে যাবে চট্টগ্রামে। ১৭, ১৯ ও ২১ জুন সিরিজের তিন টি-টোয়েন্টি হবে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে।