হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

পরোয়ানা

সম্পাদকীয়

বিচারব্যবস্থার মূল শক্তি আদালতের রায়ের কার্যকর বাস্তবায়নে। কিন্তু আদালত কোনো মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিলেও সেই রায়ের পরোয়ানা মাসের পর মাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টেবিলে যদি আটকে থাকে অথবা গায়েব হয়ে যায়, তাহলে কী হবে? অবাক হওয়ার মতো এমন ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঠানোর কথা ছিল একজনের সাজা পরোয়ানা। কিন্তু এক বছরেও সেটি গন্তব্যে পৌঁছায়নি। এর চেয়ে গুরুতর বিষয়, অভিযোগ উঠেছে যে অর্থের বিনিময়ে পরোয়ানাটি ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এই ঘটনা যেমন প্রশাসনিক ব্যর্থতা, তেমনি এটি আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাতও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের বাসিন্দা আসামি সুমন রেজা মাদক এবং জাল রুপির কারবারে জড়িত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি মামলা আছে। দুটি মামলায় এখন তিনি আছেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে। ২০২২ সালে হেরোইনসহ রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকায় তিনি ধরা পড়েন। এরপর আদালতের রায়ে তাঁকে ২০২৪ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল সেই সাজার পরোয়ানা নিয়মমাফিক চলে যায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শকের কার্যালয়ে, সেখান থেকে প্রসিকিউশন শাখার উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় হয়ে শিবগঞ্জ থানায় পৌঁছার কথা। কিন্তু বছর পার হলেও সুমন রেজার পরোয়ানার কোনো হদিস নেই। অথচ তাঁরই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুমন আলীর পরোয়ানা একই জায়গায় পৌঁছেছে গত বছরের নভেম্বর মাসে।

অন্য দুটি মামলায় এখন কারাগারে থাকলেও সংশ্লিষ্ট মামলায় সুমন রেজাকে গ্রেপ্তার দেখানো সম্ভব হয়নি শুধু সাজা পরোয়ানা যথাস্থানে না পৌঁছানোয়। একটি কাগজের অনুপস্থিতি পুরো বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে।

পরোয়ানা আদালত থেকে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছানোর একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার কোনো এক জায়গায় যদি একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যায় বা আটকে থাকে, তাহলে দায় শুধু একজনের নয়; পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহির অভাব সেখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, অনেক ক্ষেত্রে এমন তদন্ত শেষ পর্যন্ত দায় নির্ধারণ কিংবা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিতে পৌঁছায় না। বরং শাস্তি থেকে বেঁচে গেলে সেটা একটা বাজে উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।

অর্থের বিনিময়ে পরোয়ানা আটকে দেওয়ার অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করে দেখতে হবে। নয়তো এভাবেই পার পেয়ে যাওয়ার পথ খুলে যেতে থাকবে আসামিদের জন্য। সেটাও কি কোনো ভালো উদাহরণ হবে?

যুগ বদলেছে। ডিজিটাল মাধ্যমে চাইলেই সমস্যার সমাধান করা যায়। ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু থাকলে কোন কর্মকর্তা কখন নথি গ্রহণ করেছেন, কত দিন তাঁর কাছে রেখেছেন এবং কোথায় পাঠিয়েছেন—সবকিছুই মুহূর্তে জানা সম্ভব। এতে ইচ্ছাকৃত দেরি বা অনিয়মের সুযোগও অনেক কমে যাওয়ার কথা।

বিচার কার্যকর যদি না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ে। তাদের আস্থা ধরে রাখতে রাষ্ট্র এসব অনিয়মের পথ বন্ধ করবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

ইস্ট ইন্ডিয়া ১৮১৮

লোভী চিকিৎসক

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

আবারও গ্যাস-সংকট

কী নৃশংস

সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য

পাল্টাপাল্টি মামলা

কৃষকের কান্না

কালভার্ট-কাহিনি

নষ্ট দাঁত