হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য

সম্পাদকীয়

জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর এ কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জামায়াত নেতা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইলেও ঘটনাগুলো তাঁর জন্যই শুধু অস্বস্তিকর নয়, তাঁদের দলের রাজনীতিও তাতে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে।

জামায়াত নেতার অংশগ্রহণে যে ভিডিওগুলো ছড়িয়েছে, তা নিয়ে কিছু কথা বলতেই হয়। শুরুতে জামায়াতের কিছু লোকের পক্ষ থেকে এই ভিডিওগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে একটি গল্প ফাঁদা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যখন সেই দাবি ধোপে টেকেনি, তখন স্বয়ং সাতক্ষীরা থেকে নির্বাচিত এই এমপি ভিডিওটি সত্য বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। এবং তখন তিনি সঙ্গের নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। এসব বিষয়ে যখনই গাজী নজরুল ইসলাম কিছু বলেছেন, তখনই এমন সব তথ্য হাজির করা হয়েছে যে তাতে এই সংসদ সদস্যের বিপদ আরও বেড়ে গেছে। প্রতিটি ঘটনাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষিত হচ্ছে বলে সংসদ সদস্য আরও বেশি সমালোচিত হচ্ছেন। বিশেষ করে তাঁর নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংসদ সদস্যের এই অস্বস্তিকর অবস্থা ঢাকার জন্য স্থানীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে যে অসত্য তথ্য প্রচার করা হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আমরা এ বিষয়ে খুবই সরল কয়েকটি মন্তব্য করতে চাই। যাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন গাজী নজরুল ইসলাম, বিয়ের সময় তাঁর বয়স বলা হচ্ছে ১৮ বছর ২৬ দিন। অথচ এই মেয়েটিরই একটি জীবনবৃত্তান্ত পাওয়া গেছে, যেখানে বলা হচ্ছে মেয়েটি অবিবাহিত। সেই অবিবাহিত মেয়েটির পক্ষে জোর সুপারিশ করেছেন এই এমপি। পাঠকের সুবিধার জন্য বিষয়টি আরও খোলাসা করছি। গাজী নজরুল ইসলাম বলতে চাইছেন, এই নারীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে গত ১৭ জুন। জীবনবৃত্তান্তটিতে তারিখ রয়েছে ২২ জুন। ‘জোর সুপারিশ’ করা এই জীবনবৃত্তান্তে মেয়েটির বৈবাহিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে কেন ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে, তার কী ব্যাখ্যা দেবেন এই সংসদ সদস্য? এ ছাড়া একটি ভিডিওতে তিনি যেভাবে কথা বলছিলেন, তাতে তাঁকে অপরাধীর মতো নারী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসার স্বীকারোক্তি করতে দেখা গেছে। নিজের স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও এলে কেউ এ রকম কাঁচুমাচু হয়ে কথা বলে না।

অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত সরকারের অংশ হয়েছিল, ইউনূসীয় শাসনামলে জামায়াত নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা নিয়ে জামায়াত এখনো রহস্যময় আচরণ করে চলেছে। সেই সঙ্গে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে যেভাবে চরিত্র স্খলনের ঘটনা ঘটছে, তা জামায়াতকে আরও বেশি বিতর্কিত করে তুলবে। যদিও এই ঘটনায় জামায়াত তাঁকে বহিষ্কার করেছে। তবু এর খেসারত জামায়াতকে দলগতভাবে দিতে হবে অনেক দিন।

পাল্টাপাল্টি মামলা

কৃষকের কান্না

কালভার্ট-কাহিনি

নষ্ট দাঁত

সড়ক ও সংস্কার

নেত্রী ও গাছ কাটা

দুর্নীতি

পানি

নির্জনা হত্যাকাণ্ড

বিশ্বকাপে পচা শামুক নেই