হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

জামায়াত এমপির কন্যার কাণ্ড

সম্পাদকীয়

যে ঘটনা ঘটিয়েছেন যশোরের জামায়াতের এমপির মেয়ে, তা অবিশ্বাস্য। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় গিয়ে কোমলমতি শিশুদের তিনি পিটিয়েছেন। অভিভাবকেরাও তাঁর মারের হাত থেকে রেহাই পাননি। পাড়াপড়শিদের কেউ কেউ বলছেন, এই কর্মসাধনের সময় এমপিকন্যা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।

স্ক্যান্ডাল পিছু ছাড়ছে না জামায়াতের। এই কিছুদিন আগে সাতক্ষীরার এমপি এমন এক অঘটন ঘটালেন, যা বিস্মিত করল দেশবাসীকে। ব্যাপারটা এমন নয় যে এভাবে আর কেউ ধরা পড়ে না। ঘটনাটি বিস্ময়কর ছিল মূলত এই কারণে যে সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে জামায়াতের যে কঠোর অবস্থান রয়েছে, তার সঙ্গে বিষয়টির বৈপরীত্য। মুখের কথা এবং বাস্তব কাজ নিয়ে তাদের আচরণের ব্যাপারে যে সন্দেহ রয়েছে জনমনে, তারই নিরেট একটি উদাহরণ ছিল সাতক্ষীরার ঘটনাটি। আর এবার যশোরের নীলগঞ্জ সুপারিবাগান এলাকায় জামায়াতের এমপিকন্যার দাপট দেখার সুযোগ হলো দেশবাসীর। সেই সঙ্গে এটাও দেখা গেল যে এলাকার দাপটওয়ালা এমপি হলেও স্থানীয় জনগণ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। বহু নেতিবাচক বিষয়ের মধ্যে এটি একটি ইতিবাচক দিক।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অন্যায়। এই অন্যায় কাজ যেন নিপাতনে সিদ্ধ হয়ে ন্যায়ে পরিণত হয়েছে। নইলে একের পর এক জঘন্য কাণ্ড কেন ঘটতে থাকবে? এমপির এলাকায় মাদ্রাসা, এই মাদ্রাসায় চলাফেরা করার রাস্তা নিয়ে বিরোধের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান তো হতেই পারত। কিন্তু সে সমাধান তো দূরের কথা, মারপিটের দিকে চলে গেল ঘটনা। এমপি দাবি করেছেন, তাঁর মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তাহলে সে এক দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু সে সঙ্গে এ প্রশ্নও তোলা যায়, মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়েটি কীভাবে বাইরে এলেন এবং মাদ্রাসায় গিয়ে শিশুদের ওপর চড়াও হলেন? এ রকম একটি মেয়েকে নিরাপদে আগলে রাখা তো এমপি পরিবারেরই দায়িত্ব!

কে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক, এ ক্ষেত্রে তা খুবই অবান্তর প্রশ্ন। রাজনীতির মধ্যে ধর্মকে টেনে এনে যেমন ধর্মের অপব্যবহার ইউনূস আমলে বেড়ে উঠেছিল, তা এখনো সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। যে রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মকে ব্যবহার করে আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির মূলে কুঠারাঘাত করছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া খুবই দরকার। বিরোধী দলে অবস্থান করেও জামায়াত যে ধরনের রাজনীতির পরিচয় দিচ্ছে, তা গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সে বিষয়ে ভাবাও এখন প্রয়োজন।

যশোরের ঘটনাটি যদিও স্থানীয় একটি সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট, তারপরও বলতে হয় একজন এমপি যেহেতু এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন, সেহেতু একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসার পথে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে যদি কেউ মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তাহলে এই সংকট সহজে কাটবে বলে মনে হয় না। মীমাংসার সেই সহজ সুযোগটিও হাতছাড়া হয়ে যাবে। এমপি মহাশয় যেন নিজ এলাকার জনগণের ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন, কারণ তাঁদের ভোটেই তিনি আজ সংসদ সদস্য।

পরোয়ানা

ইস্ট ইন্ডিয়া ১৮১৮

লোভী চিকিৎসক

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

আবারও গ্যাস-সংকট

কী নৃশংস

সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য

পাল্টাপাল্টি মামলা

কৃষকের কান্না

কালভার্ট-কাহিনি