সারা দিনের পর বাড়ি ফিরে সবার আগে গোসল সেরে নিতে পারলেই যেন শান্তি এই গরমে। এ সময় শুধু যে শুধু ঘামই হচ্ছে, তা নয়; শরীরও ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ত্বকে ময়লা জমছে বেশি। ফলে বেড়ে যাচ্ছে চুলকানি ও ত্বকের র্যাশ। তাই প্রতিদিনের গোসল হওয়া চাই এমন, যাতে ময়লা ও ক্লান্তি কাটিয়ে শরীর পুনরায় ঝরঝরে হয়ে ওঠে। এই গোসল আরও উপকারী ও উপভোগ্য করে তুলতে পারে গোসলের পানিতে দেওয়া এক চিমটি লবণ। গোসলের পানিতে এক চিমটি লবণ দিয়ে নিজেই চমক দেখুন।
প্রতিদিন বাইরে বের হলে ত্বকে ধুলোবালি লাগে, ঘাম হয় এবং ময়লা জমে। লবণ মেশানো পানি ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করতে পারে। এটি ত্বকের রোমকূপ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং জমে থাকা ময়লা দূর করে। ত্বকের চুলকানিও দূর হয় এতে। তাই গরমের দিন গোসলের পানিতে লবণ মেশালে ত্বক গভীর থেকে পরিচ্ছন্ন থাকবে।
সারা দিন কাজের পর অনেকের শরীরে ব্যথা ও পেশিতে টান অনুভূত হয়। হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে গোসল করলে শরীর কিছুটা আরাম পেতে পারে। বিশেষ করে এপসম লবণে থাকা ম্যাগনেশিয়াম পেশিকে শিথিল করতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। ফলে ক্লান্তি কমে এবং শরীর তুলনামূলকভাবে সতেজ অনুভূত হয়।
লবণ প্রাকৃতিকভাবে মৃদু এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মরা কোষ দূর করে। এর ফলে ত্বক আরও নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়। যাঁদের ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় বা খসখসে লাগে, তাঁরা এই অভ্যাস থেকে কিছুটা উপকার পেতে পারেন।
গরমের সময় অনেকের ত্বকে চুলকানি, ঘামাচি বা হালকা র্যাশের সমস্যা দেখা দেয়। লবণের কিছু প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের ছোটখাটো অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো গুরুতর ত্বকের সমস্যা বা সংক্রমণ থাকলে ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শুধু শরীর নয়, লবণ মেশানো হালকা গরম পানিতে গোসল করলে মন প্রফুল্ল থাকে। রাতে ঘুমানোর আগে গোসল করার অভ্যাস থাকলে পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। ঘুম প্রশান্তিময় হবে নিশ্চিত।
এটি খুব সাধারণ প্রশ্ন। গোসলের জন্য সাধারণত এপসম লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। চাইলে রক সল্ট ও সি সল্টও ব্যবহার করা যায়। একেবারেই হাতের কাছে এসব না থাকলে সাধারণ খাওয়ার লবণ ব্যবহারেও বাধা নেই। কুসুম গরম পানিতে লবণ ভালোভাবে কাজ করে। এটি শরীরে আরাম দিতে, ত্বক সতেজ রাখতে এবং দিনের শেষে কিছুটা মানসিক স্বস্তি এনে দিতে সহায়তা করতে পারে।
সূত্র: হেলথ লাইন, দ্য বেটার বাথ ও অন্যান্য