ওজন কমানোর চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সঠিক খাদ্যাভ্যাসে। আর যখন মেদ ঝরানোর কথা আসে, তখন কার্যকর পুষ্টি উপাদানটি হলো প্রোটিন। নিয়মিত ডিম, বাদাম বা ডালজাতীয় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে তা পেট ভরিয়ে রাখে। এই খাদ্যাভ্যাস সারা দিনের সামগ্রিক খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেয়। তাই কৃত্রিম ডায়েটের পেছনে না ছুটে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রাকৃতিক প্রোটিন যুক্ত করা ওজন কমানোর সহজ এবং টেকসই উপায়। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার বা ‘হাই-প্রোটিন ইটিং প্ল্যান’ ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ না করেও অত্যন্ত সহজে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি শরীরের চর্বি ও পেটের মেদ কমায় এবং পেশির ভর বাড়ায়।
খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ালে তা শরীরের ভেতরে প্রধানত চারটি বড় পরিবর্তন আনে। প্রথমত, এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। প্রোটিন অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক খাবার। এটি খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগে না। ফলে সারা দিনে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ নিজে থেকে কমে যায়। দ্বিতীয়ত, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার অসময়ে বা গভীর রাতে হালকা খাবার খাওয়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রতি তীব্র ইচ্ছা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, প্রোটিনের থার্মিক ইফেক্ট অনেক বেশি। এটি ক্যালরি পোড়ানোর গতি বাড়ায়। অর্থাৎ, প্রোটিন হজম করতে শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরে বিপাক ক্রিয়া বা মেটাবলিজম বাড়ে এবং দৈনিক অতিরিক্ত ৮০ থেকে ১০০ ক্যালরি পর্যন্ত ব্যয় হয়।
আর চতুর্থ বৈশিষ্ট্যটি হলো, প্রোটিন ক্ষুধার হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। এটি আমাদের শরীরে ক্ষুধার হরমোন ঘেরলিনের মাত্রা কমায়। একই সঙ্গে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন জিএলপি-১ ও পিওয়াইওয়াইয়ের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।
একজন সুস্থ মানুষের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ৩০ গ্রাম মানসম্পন্ন প্রোটিনই যথেষ্ট। তবে কিছু তথ্যপ্রমাণ বলছে, যদি কেউ শরীরে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি বজায় রাখতে, মেটাবলিজম উন্নত করতে এবং দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাহলে দৈনিক ১০০ গ্রাম বা তার বেশি প্রোটিন গ্রহণ শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রোটিনের উৎস মূলত দুটি। খাবারের প্রাকৃতিক উৎস এবং সাপ্লিমেন্ট, যেমন প্রোটিন শেক। তবে উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ—উভয় উৎসের প্রোটিনই ওজন কমাতে সমানভাবে কার্যকরী। ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন কমানোর ক্ষেত্রে দুটি উৎসের কার্যকারিতাই চমৎকার।
সূত্র: হেলথ লাইন