‘ক্ষুধার্ত এক নারীর প্রতি ছাত্রদলের নির্মম নির্যাতন’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ‘Nazmul Hassan’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশনে ইংরেজিতে দাবি করা হয়, ক্ষুধার্ত পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন নির্মমভাবে দমন করা হচ্ছে। বিএনপির কর্মীরা শ্রমিকদের বেঁধে রেখে অমানবিক নির্যাতন করছেন, তাঁদের গুম কিংবা হত্যা করছেন। অথচ বাংলাদেশের গণমাধ্যম নীরব রয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা প্রচার করছে না।
এ ছাড়া, চলতি বছরের ১২ মে ‘Supporters of Bangladesh Awami League’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপেও একই ভিডিও শেয়ার করা হয়। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, একজন ক্ষুধার্ত নারীর প্রতি নির্মম আচরণ কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। ক্ষমতা কিংবা পরিচয়ের দম্ভ দেখিয়ে দুর্বল মানুষের ওপর অত্যাচার করা কাপুরুষতা ছাড়া কিছুই নয়।
১৮ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক নারীকে ঘিরে উৎসুক জনতা জটলা করে আছে এবং এক তরুণ তাঁর হাত দড়ি দিয়ে পিছমোড়া করে বাঁধছেন। এ সময় আকুতি জানিয়ে ওই নারীকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘কাকা, ৮ হাজার টাকা আমি নিইনি কাকা, ৮ হাজার টাকা আমি নিইনি।’ এ ছাড়া ১২ মে ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিওটির বাম পাশে ওপরে ‘সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী’ লেখা দেখতে পাওয়া যায়।
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সাম্প্রতিক আন্দোলনে সাভার বা গাজীপুরে শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সেখানে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘নোয়াখালীর খবর ২৪’ নামের একটি ফেসবুক পেজে চলতি বছরের ১২ মে শেয়ার একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ২ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘সোনাইমুড়ীতে টাকা চুরির অভিযোগে এক নারীকে স্থানীয়রা আটক করেছেন।’ ওই নারীকে একটি চক্রের সদস্য বলেও ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার মারধরের অভিযোগের কথাও বলা হয়। পোস্টটিতে ঘটনার স্থান হিসেবে সোনাইমুড়ী, নোয়াখালীর নাম উল্লেখ করে #সোনাইমুড়ী, #নোয়াখালী, #চোরচক্র, #গণধোলাই ও #BreakingNews হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড দিয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘সোনাইমুড়ীর আওয়াজ’ -সহ কয়েকটি (১, ২) স্থানীয় অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে ও ইউটিউব অ্যাকাউন্টে একই ঘটনার ভিডিওও তথ্য পাওয়া যায়। এসব ভিডিওর কোথাও ছাত্রদল বা কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়নি। বরং ভিডিওগুলোতে টাকা চুরির অভিযোগ, ওই নারীর সঙ্গে আরও দুজন সহযোগী থাকার দাবি ও তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কথা শোনা যায়। ভিডিওগুলোর কমেন্টেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে ‘নোয়াখালী খবর টুয়েন্টিফোর’-এর পেজে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে পেজের অ্যাডমিন গুলজার হানিফ জানান, ওই নারী মূলত একটি চোর চক্রের সদস্য। ভুক্তভোগীদের তথ্য পেয়ে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ভিডিওটি ধারণ করেন। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই।
ক্ষুধার্ত নারী পোশাকশ্রমিককে ছাত্রদলের নির্যাতন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার। প্রকৃতপক্ষে, চলতি বছরের ১২ মে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক নারীকে চোর সন্দেহে আটকের ঘটনার ভিডিও এটি।