ঢাকা: প্রথমে ফেসবুকের মাধ্যমে সবাইকে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিষয়ে জানান অভিনেত্রী পরীমণি। এরপর গতকাল রোববার রাতেই বনানীর বাসায় গণমাধ্যমে কথা বলেন তিনি। অভিযোগ করেন ঘটনার পর পুলিশ, প্রশাসন, শিল্পী সমিতি সবার কাছে ধরনা দিয়েও বিচার পাননি। অবশেষে ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিলেন এ নায়িকা।
আজ সোমবার বেলা ১টার দিকে সাভার থানায় দায়ের হওয়া এজাহারে পরীমণি উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও চারজনসহ মোট ছয়জনের নামে মামলা করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৮ জুন রাত ১১টা ৩০ মিনিটে আমার বর্তমান ঠিকানার বাসা হতে আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০), ও বনি (২০) সহ দুটি গাড়ি যোগে উত্তরার উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথিমধ্যে অমি বলে বেড়িবাঁধে ঢাকা বোট ক্লাব লিমিটেডে তাঁর দুই মিনিটের কাজ আছে। অমির কথামত আমরা ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গত ৯ জুন রাত ১২ টা ২০ মিনিটের সময় গাড়ি দাঁড় করাই। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোন এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয় তখন অমি ভেতরে যায় এবং অনুরোধ করে এখানের পরিবেশ অনেক সুন্দর তোমরা নামলে নামতে পারো। এরইমধ্যে আমার ছোট বোন বনি ঢাকা বোট ক্লাবে প্রবেশ করে বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করে। টয়লেট হতে বের হতেই ১ নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ (৫০) আমাদেরকে ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ ১ নং আসামি মদ্যপান করার জন্য জোর করেন। আমি মদ্যপান করিতে না চাইলে ১ নং আসামি জোর করে আমার মুখের মধ্যে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে, এতে আমার সামনের ঠোঁটে আঘাত প্রাপ্ত হই। ১ নং আসামি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে ও আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। উক্ত ১ নং আসামি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে রাখা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ১ নং আসামিকে বাঁধা দিতে চাইলে তাকেও মারধর করে জখম করে।
উল্লেখ্য যে আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করিছে। উক্ত বিষয়ে আমি আমার পরিবার, শিল্পী সমিতি ও অন্যান্যদের সহিত আলোচনা করে উক্ত এজাহার দায়ের করতে দেরি হল।
পরীমণির অভিযোগের বিষয়ে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নিজে এজাহার দায়ের করেছেন। তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।