হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

উচ্চশিক্ষা নিতে আসা অনেক শিক্ষার্থীরই মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনার ঘাটতি রয়েছে: ড. ইয়াসমীন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা। ছবি: সংগৃহীত

উত্তরা ইউনিভার্সিটির বর্তমান উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সম্প্রতি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

প্রশ্ন: উচ্চমাধ্যমিকের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভেতরে যে লার্নিং গ্যাপ তৈরি হচ্ছে, তার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি বিপাকে পড়ছে?

ড. ইয়াসমীন: এটা খুবই বাস্তব একটা সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী যখন ভর্তি হয়, তখন আমরা ধরেই নিই যে তার মৌলিক ভাষাগত দক্ষতা, গাণিতিক বুদ্ধিমত্তা, সাধারণ জ্ঞান, বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, নতুন কিছু চট করে শিখতে পারার বা কোনো নতুন ধারণাকে গ্রহণ করতে পারার যে সক্ষমতা সেটা একটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে গিয়ে দেখতে পাচ্ছি আমাদের ধারণা একদমই ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা অনেক শিক্ষার্থীরই মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা এবং বোঝার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়কে তখন আর শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, বরং আগেই তার লার্নিং গ্যাপ পূরণ করে তার ভিত্তি মজবুত করে দেওয়ার কাজটাও আমাদেরই করতে হচ্ছে। এতে করে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচুর সময়, অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং একাডেমিক কাঠামোর ওপর খুবই অযাচিতভাবে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

প্রশ্ন: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক স্তরের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষ কোনো রিমেডিয়াল ক্লাস বা প্রোগ্রামের কথা ভাবছে?

ড. ইয়াসমীন: বিষয়টা আর ভাবাভাবির ভেতর সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভাবনা শেষ করে উদ্যোগ নিয়ে আমাদের রীতিমতো এর বাস্তবায়নও করতে হয়েছে। আপনি হয়তো জানেন, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিন্তু এখন শুধুমাত্র ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবেই তারা কাজ করে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কেও আমরা ঠিক সেভাবেই সাজিয়েছি। একদম নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্র ছাত্রীদের প্রথমেই আমরা আমাদের জেনারেল এডুকেশনের আওতায় ব্রিজ কোর্স, ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম, ইংরেজি ও গণিত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ক্লাস করাই। এর বাইরেও ওরা যেন পড়ালেখা শেষ করে পেশাজীবী হিসেবে সফল হতে পারে সে জন্য আমরা বিভিন্ন সফট স্কিল ট্রেনিং এবং একাডেমিক কাউন্সেলিংয়ের মতো উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ আমাদের প্রথম এবং প্রধান উদ্দেশ্যই থাকে শিক্ষার্থীকে তার কর্মক্ষেত্রের জন্য তৈরি করে দেওয়া। আর সেটা করতে হলে শিক্ষার্থীকে তার দুর্বলতার জায়গাগুলো আগে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সব রকম সহায়তা দিতেই হবে।

প্রশ্ন: এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশ অকৃতকার্য হওয়াতে কি উচ্চশিক্ষা খাতে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করবে?

ড. ইয়াসমীন: উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য অবশ্যই বিষয়টা উদ্বেগের। কারণ উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পাইপলাইন যদি দুর্বল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে এটিকে শুধু সংকট হিসেবে না দেখে বরং আমাদের এর পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং ভালো ভাবে তার বিশ্লেষণ করতে হবে। কেন শিক্ষার্থীরা এভাবে পিছিয়ে পড়ছে সেটা না জানতে পারলে আমরা কিন্তু সামনের দিনগুলোতে একটা মারাত্মক সংকটে পড়ে যাব। উপরন্তু, কীভাবে এই শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগী হয়ে তাদের পুনরায় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা যায়, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না করে শুধু সংখ্যা বাড়ানো মোটেই কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়।

প্রশ্ন: উচ্চশিক্ষার সংকট নিরসনে মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলাম নিয়ে কি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে?

ড. ইয়াসমীন: নিশ্চয়ই সময় এসেছে। আমাদের কারিকুলামকে এমন হতে হবে যা মুখস্থনির্ভর নয়, বরং দক্ষতাভিত্তিক, সমস্যা সমাধানমুখী, প্রযুক্তি সচেতন এবং বাস্তবজীবন উপযোগী। স্কুল-কলেজের শিক্ষা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত না হয়, তাহলে ব্যবধান থেকেই যাবে। তাই জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষাবিদ, শিল্প খাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবা জরুরি।

প্রশ্ন: আপনার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বলুন, উত্তরা ইউনিভার্সিটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?

ড. ইয়াসমীন: আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে উত্তরা ইউনিভার্সিটির নাম যেন পরিচিত হয় উচ্চ শিক্ষা এবং গবেষণায় উৎকর্ষতার জন্য। এ বছর আমরা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ফর ইনোভেশনে (উরি) বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯৩ তম স্থান অর্জন করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার ৬৪ ধাপ এগিয়েছি আমরা। এর বাইরেও স্টুডেন্ট সাপোর্ট অ্যান্ড এনগেজমেন্ট ক্যাটাগরিতে বিশ্বের অনেক নাম করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছি আমরা। খুবই দ্রুত সময়ের ভেতর আমাদের এই অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের সকল শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, এর সবই আসলে পরিচালিত হয় শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে রেখে। আমরা সব সময় চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন সব থেকে সেরা বলে পরিচিত হয়, সেটা পেশাজীবী হিসেবেই হোক কিংবা সমাজের একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেই হোক।

প্রশ্ন: আপনি একজন নারী উপাচার্য, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এটা অনেকটাই বিরল। বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

ড. ইয়াসমীন: আমি এটাকে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দায়িত্ব হিসেবে দেখতেই পছন্দ করি। আমার উপাচার্য পদে আসাই আসলে প্রমাণ করে যে নারীরা নেতৃত্বের প্রতিটা ক্ষেত্রেই সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন। আমি চাই ভবিষ্যতে ‘নারী উপাচার্য’ এই কথাটা যেন আলাদা করে কাউকে আর বলতে না হয়। বরং দেশে এমন আরও অনেক নারী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেতৃত্বে আসুন, আমি সেটাই চাই। আমাদের সমাজে নারীর সম্ভাবনা অসীম, শুধু সুযোগ ও আস্থা দরকার।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি ঢাবির বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনের

পাবিপ্রবি দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে

বিশ্বের দক্ষিণ অঞ্চলের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে একত্র করতে চায় চীন

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ঈদুল আজহা

পাঠকবন্ধু পুরস্কৃত করল ১২ সংগঠককে

দেশব্যাপী ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে আইএসইউ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রেসিডেন্সি ই-স্পোর্টস ম্যানিয়া সিজন-১ সফলভাবে অনুষ্ঠিত

ঈদের ছুটির পর জবিতে অনলাইন ক্লাস বন্ধের সিদ্ধান্ত

জাবি ক্যাম্পাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নারী নিরাপত্তা মঞ্চের মৌন মিছিল

চবিকে হারিয়ে ভলিবল ‘চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা জিতল ঢাবি