ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পাঁচটি নারী হলের শিক্ষার্থীদের একাংশ হল প্রশাসনের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নিয়মের অবসান এবং নারী শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে তিন দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এর আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, কবি সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীদের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করেন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য সব ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, হলের মূল ফটকে সময়সীমা ও বের হওয়ার জটিল নিয়ম শিথিল করা এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা, বোনসহ নারী অভিভাবকদের সহজ প্রক্রিয়ায় হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক নিয়ম চাপিয়ে রাখা হয়েছে। সামান্য দেরি হলেও হলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে হল ত্যাগ করতেও দীর্ঘ অনুমতি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, ‘আমাদের বাবা মারা গেলেও আবেদন লিখে অনুমতি নিয়ে বের হতে হয়। গুরুতর অসুস্থ হলেও অনুমতি পেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। আমরা এই অমানবিক নিয়মের পরিবর্তন চাই।’
২৪ ঘণ্টা হলের গেট খোলা রাখার দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, এটি এখন তাঁদের প্রধান দাবি নয়। আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্যাম্পাস ও হলসংলগ্ন এলাকায় ভবঘুরে, নেশাগ্রস্ত ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী জাকিয়া আক্তার বলেন, অনাবাসিক শিক্ষার্থী হওয়ায় তিনি অন্য কোনো হলে প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে নিকটবর্তী হলের ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকেও অনেক সময় বঞ্চিত হতে হয়।
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল-সংযুক্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থী সামিয়া অভিযোগ করেন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সন্দেহের চোখে দেখা হয় এবং হলভিত্তিক সাংস্কৃতিক, সহশিক্ষা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হন।
কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) শিমু আক্তার বলেন, আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ধরনের নারী শিক্ষার্থীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত এবং হয়রানিমূলক আচরণের অবসানের দাবিতে পাঁচটি নারী হলের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।