অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার ভাগ-বণ্টন নিয়ে রাজস্ব বিভাগের কর্মচারী আমিনুল ইসলাম গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ফাঁস নেওয়ার আগে ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে সরকারি এই কর্মচারী তাঁর মৃত্যুর জন্য এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করে যান।
আমিনুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার সৈয়দপুর তহসিল অফিসের অফিস সহকারী। তাঁর বাড়ি পাশের চাতুটিয়া গ্রামে।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গোপালপুর অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার সাদেক আরমান তাঁকে অনলাইন জুয়ায় আনেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ধার নেন। সেই টাকা তিনি আর ফেরত দিচ্ছিলেন না। উল্টো তাঁর কাছ থেকে ব্যাংক চেকে সই নিয়ে তাঁকে হুমকি দিচ্ছিলেন।
আমিনুলের বাবা ভোলা মিয়া বলেন, অনলাইনে বাজি খেলতে গিয়ে তাঁর ছেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ব্যাংক কর্মকর্তা ধার নেওয়া দেড় কোটি টাকাও তাঁকে ফেরত দিচ্ছিলেন না। পাওনাদারেরা তাঁকে প্রতিদিন টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছিলেন। এতে আমিনুল হতাশ হয়ে পড়েন। গত বুধবার (৬ মে) রাতে রান্নাঘরের ধরনার সঙ্গে ফাঁসি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
ভোলা মিয়া আরও বলেন, আমিনুলের তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী তিন মাসের গর্ভবতী। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আমিনুল।
ভোলা মিয়ার দাবি, পাওনা টাকার শোকে তাঁর ছেলে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি এর বিচার দাবি করেন।
এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা সাদেক আরমানের মোবাইলে বারবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে নেওয়া ধারের টাকা সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে। ফেসবুকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অগ্রণী ব্যাংক গোপালপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা সোলায়মান কবীর জানান, ‘সাদেক আরমান আজ ব্যাংকে আসেননি। হয়তো ছুটি নিয়েছেন।’
গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নবাব আলী বলেন, আমিনুল ইসলামের পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমিনুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইলের মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।