রংপুরে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনকে কেন্দ্র করে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসকসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা হয়েছে। সচল পোস্ট-পেইড মিটার খুলে জোরপূর্বক প্রি-পেইড মিটার স্থাপন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য এবং গ্রাহকদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে আজ বুধবার রংপুরের সিনিয়র সহকারী জজ সদর আদালতে মামলাটি করেন মহানগর নাগরিক কমিটির সিনিয়র সদস্য আব্দুর জব্বার সরকারসহ প্রি-পেইড মিটারে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জন গ্রাহক।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ।
মামলার আসামিরা হলেন নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মো. আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ-১) মো. মোসাদ্দেক কবির, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ-২) মো. শরিফুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এনার্জি এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড মিটারিং) মো. মোশারফুজ্জামান ভূঁইয়া, নেসকো রংপুরের ব্যবস্থাপক (হিসাব) মোছা. কানিজ ফাতেমা এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক। তবে মামলায় জেলা প্রশাসক শব্দ ব্যবহার করা হলেও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বাদীদের অভিযোগ, প্রি-পেইড মিটারে প্রতিবার রিচার্জের সময় মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করে, পোস্ট-পেইড ও প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুতের ব্যবহার ব্যয় একই। তাহলে অতিরিক্ত অর্থ কেন কেটে নেওয়া হচ্ছে। মিটার লক হলে ৬০০ টাকা খরচ লাগে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ আইনে সংযোগ বিচ্ছিন্নের অন্তত ১৫ দিন আগে নোটিশ দেওয়ার বিধান থাকলেও প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে সেই আইনি সুরক্ষা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।
মামলা করার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব ও বাদী পক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৪ জুলাইয়ের নির্দেশনায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া পোস্ট-পেইড মিটারের পরিবর্তে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কথা বলা হলেও নেসকো সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সচল পোস্ট-পেইড মিটার খুলে জোরপূর্বক প্রি-পেইড মিটার বসাচ্ছে।
পলাশ কান্তি নাগ আরও বলেন, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সাড়ে নয় লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের আন্দোলন চললেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। তাই প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রমকে বেআইনি ঘোষণা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
এ সময় মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মোজাহার আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে নেসকোর প্রধান আশরাফুল ইসলাম মন্ডলের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, শুনেছি একটা মামলা হয়েছে। তবে কী মামলা হয়েছে, জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।