পাহাড় আর হ্রদের মিতালি দেখতে এবারের ঈদের ছুটিতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পর্যটকদের মিশ্র উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের তিল ধারণের ঠাঁই না থাকলেও রাঙামাটি জেলা শহরে পর্যটকের আগমন ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। তবে ঈদের তৃতীয় দিনে এসে শহরের পর্যটন স্পটগুলোতে কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরদিন থেকেই মেঘের রাজ্য সাজেকে ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ দেব বর্মণ জানান, সাজেকে অবস্থিত দেড় শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ এখন পর্যটকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের এই প্রবল চাপ আরও অন্তত দুই দিন থাকবে। এরপর ভিড় কিছুটা কমলেও সামনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’
সাজেকে পর্যটকের এমন উপচে পড়া ভিড় থাকলেও রাঙামাটি শহরের চিত্র ছিল ভিন্ন। ঈদের প্রথম দুই দিন শহরের রাস্তাঘাট ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো প্রায় ফাঁকা থাকলেও তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে এসে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে দেখা গেছে। শহরের প্রধান আকর্ষণ পর্যটন করপোরেশনের ঝুলন্ত সেতু, আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক, বড় আদাম এবং পলওয়েল পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল। অনেক পর্যটক কাপ্তাই হ্রদে নৌ ভ্রমণে বের হয়ে পাহাড় ও হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার ছিল।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, ‘এবারের ঈদে রাঙামাটি শহরে আশানুরূপ পর্যটক আসেনি। তবে পর্যটন করপোরেশনের স্পটগুলোতে মোটামুটি পর্যটক ছিল। আশা করছি, সামনের পর্যটন মৌসুমে পর্যটকের আগমন আরও বৃদ্ধি পাবে।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকদের একটি বড় অংশ সরাসরি সাজেক চলে যাওয়ায় শহরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কাঙ্ক্ষিত সমাগম হয়নি। তবে উৎসবের আমেজ থাকায় আগামী কয়েক দিন শহরের স্পটগুলোতে ভিড় অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।