পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মহব্বত আলী খাঁ নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেন এলাকাবাসী। তবে অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ না করে গ্রাম্য সালিসে ২০টি জুতার বাড়ি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনা কেন্দ্র করে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে এ সালিস অনুষ্ঠিত হয়। অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ গৌরিগ্রাম হাঁড়িয়াকাহন গ্রামের মৃত তায়জাল খাঁর ছেলে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেলা ২টায় ওই প্রতিবন্ধী কিশোরী ব্যতীত বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় মহব্বত আলী তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর কিশোরীর চিৎকারে বাড়ির আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে আটক করেন।
ঘটনাটির আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে একই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিস ডাকা হয়। সালিসে মহব্বত আলীকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ২০টি জুতার বাড়ি দেওয়ার রায় দেওয়া হয় এবং সেখানেই তা বাস্তবায়ন করা হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে কোনো ধরনের বিরোধে না জড়ানোর নির্দেশ দিয়ে ঘটনাটির মীমাংসা করা হয়।
এদিকে, সালিসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত মহব্বত আলীকে গুনে গুনে জুতার বাড়ি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সালিসকারীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’