নাটোরের সিংড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় এনসিপির দুই কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়। তাঁরা হলেন সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রামের মহসীন আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ ও একই গ্রামের লালমন সরকারের ছেলে সুলতান সরকার।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার রাতে উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সভাপতি ও সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুস আকন্দ এবং ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জন এনসিপির নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে ভূরিভোজের আয়োজন করেন। এ সময় ক্যাম্পের ভেতরে অবস্থানরত এনসিপির কর্মীরা তাঁদের কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে অন্যত্র পিকনিক করার অনুরোধ জানান। এ নিয়ে সেখানে উপস্থিত এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এরই জেরে উপস্থিত বিএনপির কর্মীরা এনসিপির ক্যাম্প ভাঙচুর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে আহাদ ও সুলতানকে পিটিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত দুজনকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
সিংড়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাহাবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি কর্মীরা এনসিপির নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেছে এবং এনসিপি কর্মী আহাদ আলী ও সুলতান সরকারকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। এই ঘটনা নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে আমাদের শঙ্কিত করল। প্রশাসন এ ঘটনায় ব্যবস্থা না নিলে ভোটাররা আস্থা হারাব।’
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এনসিপি কর্মীরাই নিজেদের অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করেছে। আমাদের কোনো কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।’
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’