নাটোরের গুরুদাসপুরে মোহিরুল ইসলাম নামের এক কৃষকের পরিবারে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী সরকারি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিলহরিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়ন (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক মোহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি বুলবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে বছর চুক্তিতে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে পাট রোপণ করেছেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বুলবুল হোসেনের পক্ষ নিয়ে জিল্লুর রহমান তাঁকে লিজ নেওয়া জমি ছেড়ে দিতে বলেন।
মোহিরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার গ্রামের একটি চায়ের দোকানে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই বিএনপি নেতা জনসম্মুখে তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে কৃষকের ছেলে তানভীর প্রতিবাদ জানালে তাঁর ওপরও চড়াও হন জিল্লুর। এরপর আজ বেলা ১১টার দিকে জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল কৃষক মোহিরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
আজ দুপুরে সংবাদকর্মীদের মোহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান অন্যায়ভাবে আমাকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মেরেই ক্ষান্ত হয়নি, দলীয় দাপটে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। নিজেদের নিরাপত্তা ও ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত পাইনি। নিরুপায় হয়েই সরকারি পরিসেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়েছি। পরে পুলিশ এলেও সুষ্ঠু সমাধান পাইনি।’ ভয়ে মামলা করার সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে জিল্লুর রহমান বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কথায় কথায় দলীয় প্রভাব দেখান। গ্রামের সাধারণ নিরীহ মানুষ তাঁর ভয়ে থাকেন। মোহিরুল ইসলাম একজন নিরীহ মানুষ এবং তাঁর ওপর অন্যায় করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। ঘটনার বিচারও চান গ্রামবাসীরা।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি শান্ত থাকায় পুলিশ ফিরে আসে। তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দিতে অস্বীকার করায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান দাবি করেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে বাড়িঘর ভাঙচুরের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।