প্রায় ২৫ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে নেমেছিলেন বাক্প্রতিবন্ধী ববি বেগম (৭০)। এরপর আর কোথাও ফিরে যাননি। স্টেশনই হয়ে ওঠে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। স্টেশনের যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া ৫-১০ টাকা সহায়তা কিংবা খাবারে চলে তাঁর জীবন। কখনো প্ল্যাটফর্ম ঝাড়ু দিয়ে, আবার স্টেশনের শৌচাগার পরিষ্কার করে ৫-১০ টাকা বকশিশ পান। প্রয়োজনের সামান্য খরচ করে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। গত শনিবার দিবাগত রাতে সেই অসহায় বৃদ্ধার ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তারা বৃদ্ধার দীর্ঘদিনের সঞ্চিত প্রায় ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছে।
স্টেশন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ববি বেগমের মানবিক বিবেচনায় মেথিকান্দা রেলস্টেশনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় কর্তৃপক্ষ। আপনজন বলতে কেউ নেই তাঁর। স্টেশনের কক্ষই তাঁর একমাত্র আশ্রয়।
শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর কক্ষে ঢুকে জমানো টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করে তারা। পরে দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধার কক্ষে লুকিয়ে রাখা সঞ্চিত টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। স্টেশনমাষ্টার ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহত ববি বেগমকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরদিন সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অসহায় এই বৃদ্ধার চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দাবিও ওঠে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নজরে আসে। পরে ববি বেগমের খোঁজখবর নিয়ে তাঁর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বৃদ্ধার ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। জীবনের শেষ বয়সে যেন ববি বেগম নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেই ব্যবস্থার দাবি জানান তাঁরা।
মেথিকান্দা রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার শামিম বলেন, বাক্প্রতিবন্ধী এই বৃদ্ধার ওপর হামলা ও টাকা লুটের ঘটনা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
ইউএনও মাসুদ রানা জানান, ববি বেগমের সার্বিক দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন বহন করবে। পাশাপাশি নির্যাতন ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।