ইতালিতে বসবাসরত মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর এক যুবক তাঁর ছোট ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি ছোট ভাইকে হত্যার পর মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে রক্তাক্ত লাশ তাঁর পরিবারকেও দেখিয়েছেন। ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় লিসচে শহরে স্থানীয় সময় গত বুধবার রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
নিহত যুবকের নাম নয়ন ফকির। অভিযুক্ত বড় ভাইয়ের নাম হুমায়ুন ফকির। তাঁরা টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, বুধবার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লিসচে শহরে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির ছুরিকাঘাতে তাঁর ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে জখম করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়।
ওই সহোদরদের স্বজনদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর হুমায়ুন ফকির ভিডিও কলে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি নয়নের রক্তাক্ত লাশ দেখান এবং হত্যার কথা স্বীকার করেন। মোবাইল ফোনে নয়নের নিথর দেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর ইতালির স্থানীয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত ব্যক্তির এক বন্ধু জানান, প্রায় ১২ বছর আগে হুমায়ুন ফকির লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান। পরে ২০২৩ সালে তাঁর সহায়তায় ছোট ভাই নয়নও ইতালিতে যান। হুমায়ুন ফকিরের দুটি বিয়ে ছিল। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ছোট ভাই নয়ন তালাক না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। এর জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল হক ডাবলু বলেন, ‘ইতালিতে পারিবারিক বিরোধে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই খুনের খবর শুনেছি। তবে এই ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।’