পালিয়ে যাবে না বলে যে পালায়, আসি আসি বলে সে কোনো দিন আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের নিমতলা এলাকায় দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় ‘‘জয় বাংলা’’ স্লোগান ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বলতে চাই, আপনারা যাঁর জন্য ‘‘জয় বাংলা’’ স্লোগান দেন, সেই শেখ হাসিনা আপনাদের নিয়ে আদৌ চিন্তা করেন কি না, একবার ভেবে দেখুন।’
হাসনাত বলেন, ‘শেখ হাসিনার নিজের ছেলে একজন মার্কিন নাগরিক। মেয়ে কানাডার নাগরিক। বোনের ও তাঁদের পরিবারের একজনও বাংলাদেশের নাগরিক নন। তারপরও আপনারা মনে করেন, তিনি আপনাদের বাঁচাতে দেশে ফিরে আসবেন?’
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘যদি সত্যিই দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা থাকত, তাহলে গত বছরের আগস্টের শুরুতেই তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পাঠিয়ে দিতেন না। বাস্তবতা হচ্ছে, তিনি নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, কিন্তু আপনাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চিন্তা করেননি।’
সরকারের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, জনগণের স্বার্থের চেয়ে নির্বাচনের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁর ভাষায়, যে সরকার নির্বাচনের স্বার্থে জনগণের সঙ্গে ধোঁকা দিতে পারে, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও তারা জনগণকে ধোঁকা দিতে পারে।
সরকারের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ‘এ সরকার নির্বাচনের প্রচারণার সময় বলেছিলেন, ওনি এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। সে হিসাবে মাসে দেড় লাখের বেশি কর্মসংস্থান হওয়ার কথা। গত ৬ মাসে ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ছিল। আমি জানতে চাই, আপনাদের কয়জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা নতুন কোনো কর্মসংস্থান পেয়েছেন?’ তাঁর দাবি, এই সরকার কর্মসংস্থানের পরিবর্তে দেশের মানুষের হাতে মাদক তুলে দিচ্ছে। সারা দেশে মাদকে সয়লাভ হয়ে গেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, অনেক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গত দুই বছরে বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থায় এসেছে। তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, কোনো বাস দুর্ঘটনার পর শুধু চালক বদলে দিয়ে যাত্রীদের আবার সেই বাসে উঠতে বলা হলে কেউ তাতে রাজি হবে না। কারণ, যাত্রীরা শুধু চালক পরিবর্তন নয়, বাসের চাকা, ব্রেক, নষ্ট যন্ত্রাংশ ও পুরো ব্যবস্থার সংস্কার চান। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের অবস্থাও ঠিক তেমনই। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কারই জনগণের দাবি।
হাসনাত জানান, বিএনপিকে তাঁরা রাষ্ট্রের ‘ভাঙা বাস’ মেরামতের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সংস্কারের পরিবর্তে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে। তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি যতই দক্ষ চালক হন, ভাঙা বাস চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না। আগে রাষ্ট্রের ব্রেক, চাকা ও যন্ত্রাংশ ঠিক করতে হবে। আর সেটার নামই রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘যাঁরা আজ বলছেন সংবিধান সংস্কারের সুযোগ নেই, তাঁদের মনে রাখা উচিত, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাও প্রচলিত সংবিধানের বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী হলে নির্বাচন হতো চার বছর পর। আপনাদের নেতাদের জেলে, ধানখেতে থাকতে হতো।’ তিনি বলেন, সংবিধানের সুবিধাজনক অংশ মানা আর অসুবিধাজনক অংশ অস্বীকার করা গ্রহণযোগ্য নয়।
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মাজেদুল ইসলাম, সদস্যসচিব অ্যাড. মারুফ হাসান, সিরাজদিখান উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক আলী নেওয়াজ, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।