দিনের আলো ফুটতেই মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের একটি কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন। খবর পৌঁছানোর পর থেকে বাড়িতে শুরু হয় মাতম আর আহাজারি। সাংবাদিকদের দেখে আর্তনাদ করে তাঁর স্ত্রী রুমা বলছিলেন, ‘কে আমার স্বামীকে কেড়ে নিল, আপনারা তাঁকে বের করে দেন! এই নৃশংস কাজ যে করেছে, তাকে খুঁজে শাস্তি দেন।’
পাশে স্বজনের কোলে বসে মলিন মুখ আর বিস্ময় নিয়ে সবার দিকে তাকাচ্ছে নিহত শাকের হোসেনের অবুঝ দুই শিশুসন্তান। যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।
আজ বুধবার ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাস কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেনকে (৩৮) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি শহরের পারনান্দুয়ালি গ্রামের মো. কুতুবউদ্দিনের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার শাকের হোসেনের বাড়িতে সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা যায়, তাঁর স্ত্রী, ভাই ও স্বজনদের কান্নায় পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী শারমিন আক্তার রুমা বারবার আহাজারি করছিলেন। পঞ্চম শ্রেণি ও নার্সারিতে পড়া দুই শিশুসন্তানকে ঘিরে ছিল তাঁদের সংসার।
জানা যায়, প্রতিদিন ভোরে কাউন্টারের কাজে বাড়ি থেকে বের হতেন। আজও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে এমন কোনো ঘটনার আশঙ্কা কল্পনাও করতে পারেননি স্ত্রী কিংবা স্বজনেরা।
স্বামীর সঙ্গে কারও শত্রুতা বা বিরোধ ছিল কি না, জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কারও সঙ্গে তাঁর খারাপ সম্পর্ক ছিল বলে আমি জানি না। শাকের সবার সঙ্গে মিশতেন এবং কারও প্রতি তাঁর কোনো হিংসা বা বিদ্বেষ ছিল না।’
এদিকে ঘটনায় প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। ফলে এই সময়ে উভয়পাশের সড়কে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত জড়িতদের আটকের আশ্বাস দিলে সড়ক ছেড়ে দেন নেতা-কর্মীরা।
কাউন্টারে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আজ বুধবার ভোর ৫টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি বাস টার্মিনালে আসেন। তাঁদের একজন মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। অন্যজন কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে শাকের হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর দুজনই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বিষয়টি পরে জানতে পারেন তাঁরা।
এর আগে শাকের হোসেনকে কাউন্টারের ভেতরে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় দেখে প্রথমে তিনি স্ট্রোক করেছেন বলে ধারণা করেন উপস্থিত লোকজন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা মাইনুল হাসান জানান, স্ট্রোকের সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে আনা হলেও তাঁর মাথার পেছনে গুলির ক্ষত পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্তের সময় তার মাথার খুলির ভেতর থেকে গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞ দল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।