হোম > সারা দেশ > মাদারীপুর

মাদারীপুরে শকুনী লেকপাড়ে দর্শনার্থীদের ঢল

মাদারীপুর, প্রতিনিধি

মাদারীপুরে শকুনী লেকপাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদারীপুর শহরের প্রধান বিনোদন কেন্দ্র শকুনী লেকপাড়ে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। ঈদের ছুটিতে শহরবাসীর পাশাপাশি আশপাশের উপজেলা থেকেও মানুষজন পরিবার পরিজন নিয়ে এই লেকপাড়ে ঘুরতে আসছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই যেন লেকপাড়টি জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে।

আজ সোমবারও (২৩ মার্চ) ঈদের তৃতীয় দিনও লেকপাড়ে মানুষের ভিড় দেখা যায়। সকাল হতেই শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিশাল এলাকাজুড়ে এই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করে। তবে দুপুরের পর থেকে মানুষজনের সমাগম বেড়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক সময় নগরায়ণের প্রয়োজনে এই লেকটি খনন করা হয়। ২০১৭ সালে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে আরো দৃষ্টিনন্দন করা হয়। জেলার বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী এই লেক। বহু মানুষ দূরদূরান্ত থেকে লেকের পাড়ে ঘুরতে আসেন। সকালে ও বিকেলে শহরবাসীর লেকপাড় দিয়ে হাটাহাটি করা এখন নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈদ, নববর্ষ, পূজাসহ বিভিন্ন দিবসগুলোতে এই লেকপাড়ে মানুষের ঢল নামে। উৎসবের সময়ে লেকপাড়ে মুখরোচক খাবার, খেলনাসহ নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসে ভ্রাম্যমান দোকান। মানুষের ব্যাপক সমাগমের কারণে এসব দোকানে বেচাকেনাও কয়েকগুণ বাড়ে। লেকপাড়ে চটপটি, ফুচকা, ভেলপুরিসহ খাবারের দোকানগুলোয় নানা বয়সী মানুষের ভিড় লেগে যায়। এই লেকের পাড়ে রেস্টেরেট ও চা-কফির দোকানগুলোও জমজমাট হয়ে উঠে। দেখে মনে হয় যেন, মেলা বসেছে।

এছাড়াও মাদারীপুরের একমাত্র শিশুপার্কটি লেকপাড়ে হওয়ায় শিশুদের হাসি-আনন্দ, খেলাধুলায় মুখর হয়ে উঠে এলাকা। শিশুরাও এখানে এসে অনেক আনন্দ করে। তাছাড়া লেকপাড়ের স্বাধীনতা অঙ্গণ ও শহীদ কানন চত্তর নামে দুটি স্থানে লোকজনের সমাগম সব সময়ই দেখা যায়।

লেকে ঘুরতে আসা একাধিক দর্শনার্থী জানান, তারা সবাই কাজের জন্য পরিবার নিয়ে ঢাকাতে থাকেন। ঈদের ছুটিতে নিজ জেলায় এসেছেন। যে কয়েকদিন মাদারীপুরে থাকবেন, তারা এই শকুনি লেকপাড়ে ঘুরতে আসবেন।

লেকে ঘুরতে আসা রাকিব হাসান বলেন, লেকপাড়ের রেস্টুরেন্টগুলোর খাবারের মান খুব ভালো। এখানে আমরা প্রায় খেয়ে থাকি। আসলে মাদারীপুরের সৌন্দর্য বলতে আমরা এই শকুনি লেককেই বুঝি। তাই এখানে ঈদের সময় মানুষের ঢল নামে।

শিশুপার্কে সন্তানদের নিয়ে আসা ঘুরতে আসা ফাতেমা আক্তার তমা বলেন, বিনোদন বলতেই আমরা বুঝি এই শকুনি লেক। তাছাড়া শিশুদের জন্যও মাদারীপুর শহরে তেমন কিছু নেই। তাই শকুনি লেকপাড়ের এই শিশুপার্কে আমার দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি।

জানা যায়, ১৯৩৭-৩৮ সালের দিকে প্রমত্তা পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় যখন মাদারীপুর মূল শহরের অস্তিত্ব বিলীন হতে থাকে, তখন নতুন করে শহর স্থানান্তরের জন্য মাটির প্রয়োজনে ১৯৪২-৪৩ সালে এ লেক খনন করা হয়। সে সময় এ এলাকাটি ছিল জনমানবহীন এবং বনজঙ্গলে ভরা একটি নিন্মভূমি। নদী ভাঙন কবলিত তৎকালীন মহকুমা শহরের কোর্ট-কাচারী, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, থানা, জেলখানাসহ সরকারী কর্মকর্তাদের বাংলো স্থানান্তরের জন্য এই এলাকাটি বেছে নেওয়া হয়। কারণ সমতলে এ সব স্থাপনা তৈরি জন্য প্রচুর মাটির প্রয়োজন হওয়ায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসন এই লেকটি খনন করে মাটির চাহিদা পূরণ করেন।

মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক, সাংবাদিক, লেখক সুবল বিশ্বাস বলেন, চল্লিশের দশকে প্রচুর মাটির প্রয়োজনে বিশাল এই লেকটি খনন করতে বহু সংখ্যক মাটিকাটা শ্রমিক দরকার হয়। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এ অঞ্চলে না থাকায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সময় ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চল থেকে দু ‘হাজার মাটি কাটা শ্রমিক আনা হয়। লেক খননের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় উড়িষ্যার নাঞ্জিপুঞ্জি নামের একজন আদিবাসীকে। নাঞ্জিপুঞ্জির তত্তাবধানে ভারতের ওই দুই রাজ্য থেকে আসা দুই হাজার শ্রমিক ২০ একর জায়গার মাটি কেটে লেক খনন শুরু করেন। প্রায় ৯ মাসে লেকের খনন কাজ সম্পন্ন করা হয়। লেকের খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ার শেষ মূহূর্তে কলেরায় ৭ শ্রমিক মারা গেলে অন্য শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কোন এক রাতের অন্ধকারে তারা পালিয়ে যান। সেদিনের সেই কৃত্রিম লেক আজ এক দৃষ্টিনন্দন সরোবর-মানুষের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র।

ঘর থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ মিলল ধানখেতে

শিবচরে ঘুরতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলছাত্র নিহত

মাদারীপুরে পিকআপ ভ্যান-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ১০

মাদারীপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আহত ১৫, মহাসড়কে যানজট

ঈদের কেনাকাটার কথা বলে প্রেমিকাকে নিয়ে গলায় আঘাত, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

মাদারীপুরে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে স্কুলছাত্র গুরুতর আহত

এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চাপ, বাড়তি ভাড়ায় ক্ষোভ

মাদারীপুর সদর থানার ওসি প্রত্যাহারের দাবি

শিবচরে বিএনপি নিয়ে আমার বক্তব্য ‘স্লিপ অব টাং’: এমপি হানজালা

‘আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’