হাওরের ঢেউয়ের চেয়েও তীব্র প্রেমের টান। সেই টানে কিশোরগঞ্জের হাওরপল্লিতে হাজির হয়েছেন এক চীনা তরুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় ও মন দেওয়া-নেওয়া এবং সবশেষ ভালোবাসার মানুষকে পেতে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের কিষ্টপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এই তরুণের নাম গাও ওয়েইয়ান। তিনি জানান, তিনি চীনের হেনান প্রদেশের শিনশিয়াং শহরের মুয়ে জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবা গাও ঝানশিন। গাও ওয়েইয়ান নিজে সেখানে একজন সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
কিষ্টপুর গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম ও পাখি আক্তার দম্পতির মেয়ে ঝুমা আক্তার। তিনি কিষ্টপুর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে দাখিল পাস করেন এবং বর্তমানে চৌগাংগা পুরান বাজার কামিল মাদ্রাসার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জন্মসনদ অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট। বর্তমানে তাঁর বয়স ১৮ বছর ৯ মাস ৭ দিন।
জানা গেছে, দুই বছর আগে একটি চ্যাটিং অ্যাপে তাঁদের পরিচয় হয়। ভাষা আর সংস্কৃতির দেয়াল ভেঙে ধীরে ধীরে সেই পরিচয় রূপ নেয় গভীর প্রেমে। একপর্যায়ে দুজনেই ঘর বাঁধার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী গতকাল শনিবার (১৬ মে) রাতে বাংলাদেশে পা রাখেন গাও ওয়েইয়ান। এরপর সরাসরি চলে আসেন প্রেমিকার গ্রাম কিষ্টপুরে।
এদিকে ভিনদেশি তরুণের আগমনে কিষ্টপুর গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ চলছে। আজ রোববার (১৭ মে) সকাল থেকে ওই বাড়িতে মানুষ দল বেঁধে আসছেন নতুন অতিথিকে দেখতে। অচেনা পরিবেশ আর শত শত মানুষের এই কৌতূহলী ভিড়ে মোটেও বিরক্ত নন গাও ওয়েইয়ান। বরং বেশ হাসিমুখে ও স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে পুরো পরিস্থিতি উপভোগ করছেন তিনি।
তবে কেউ কেউ মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও বেশির ভাগ মানুষই এই ভালোবাসাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রেমের টানে এত দূর থেকে এসেছে, এটা সত্যি দেখার মতো ঘটনা। আমরা শুধু চাই, সব ধরনের আইনিপ্রক্রিয়া মেনে যেন বিয়েটা হয়, যাতে পরে মেয়েটির কোনো সমস্যা না হয়।’
হাওরের প্রত্যন্ত গ্রামে চীনা নাগরিকের আসার খবর পৌঁছেছে স্থানীয় প্রশাসনের কানেও। এ বিষয়ে ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। ওই তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে যেভাবে সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন, তা করা হবে।’