খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভারী বৃষ্টির পর আজ শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টি তুলনামূলক কমেছে। তবে উঁচু টিলা ভেঙে পড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে একাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে শঙ্কা বেড়েছে।
উপজেলার মুসলিমপাড়া, পান্নাবিল, হাজীপাড়া, মহামুনি তালতলা, মাস্টারপাড়াসহ কয়েকটি এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে।
আজ সকালে মাস্টারপাড়া এলাকায় রাস্তার গাইড ওয়াল ভেঙে পড়ে। এতে অবসরপ্রাপ্ত আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য আবদুল্লাহ খানের বাড়িতে ভাড়ায় থাকা একাধিক পরিবার অল্পের জন্য রক্ষা পায়।
মাস্টারপাড়ার পাশেই পাহাড়ের মাঝখানে থাকা আরেকটি ছাদবিশিষ্ট ভবন গত বছর হেলে পড়েছিল। ভবনটি এখনো সরিয়ে না নেওয়ায় নতুন করে ভবনের নিচ থেকে মাটি গড়িয়ে পড়ছে। এতে ভবনের নিচের দিকে থাকা কয়েকটি পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।
ঝুঁকিতে থাকা মো. আবুল হোসেনের স্ত্রী আজকের পত্রিকাকে বলেন, `আমাদের ঘরের ওপরে পাহাড়ের মাঝখানে অপরিকল্পিতভাবে গড়া ভবনটি গত বছর এই বর্ষা মৌসুমে হেলে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও মালিক পক্ষ সেটি আজও ভেঙে নেয়নি। যেকোনো সময় এটি ভেঙে আমাদের ঘরের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।'
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে বা সরকারি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বারবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং কর্মহীন পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশ দেন।