কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে এবারও বিপাকে পড়েছে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার এতিমখানা-সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলো। পাইকার বা ট্যানারি-সংশ্লিষ্ট কেউ চামড়া কিনছেন না। এ কারণে সংগৃহীত চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলছে কেউ কেউ। আবার প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা থাকায় কিছু মাদ্রাসা অনেকটা বাধ্য হয়ে চামড়ায় লবণ মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত শুরু করেছে। এসব মাদ্রাসায় গত বছর সংগ্রহ করা কোরবানির চামড়া এখনো অবিক্রীত রয়েছে। এবার আরও নতুন চামড়ার স্তূপ যুক্ত হয়েছে। এত চামড়া শেষ পর্যন্ত কী করা হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার কোরবানি পশুর চামড়া সংরক্ষণে সরকারিভাবে এতিমখানা-সংশ্লিষ্ট চারটি মাদ্রাসাকে তিন টন লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। এরপর ওই চারটি মাদ্রাসার লোকজন কোরবানি-পরবর্তী বাড়ি বাড়ি গিয়ে জবাই করা পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। কিন্তু বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও কোনো পাইকার কিংবা ক্রেতা চামড়া ক্রয়ে আগ্রহ কিংবা যোগাযোগ না করায় মাদ্রাসাগুলো চামড়ায় লবণ মিশিয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু করে।
উপজেলার ডাইনছড়ি বাজার পুরোনো মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম মাওলানা জাফর আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গত মৌসুমে সংগৃহীত প্রায় ৭০টি চামড়া এখনো অবিক্রীত আছে। এবারও সরকার থেকে বিনা মূল্যে লবণ পেয়ে ৩৭টি চামড়া সংগ্রহ করেছি। কিন্তু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া লবণ মাখানোর জন্য অভিজ্ঞ শ্রমিক মিলছে না। এতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।’
মানিকছড়ি উপজেলা সদরের দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক হাফেজ মাওলানা ফজলুল হক বলেন, ‘প্রায় আড়াই শ চামড়া সংগ্রহ করেছি। কিন্তু কোনো পাইকার বা ট্যানারির কারও সাড়াশব্দ পাচ্ছি না। ফলে এবারও সংগৃহীত পশুর চামড়া নিয়ে শঙ্কিত আছি।’
উপজেলার গচ্ছাবিল জামতলার একটি মাদ্রাসা সংগৃহীত পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গতকাল রাতে তা মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ভিডিও প্রকাশ করে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মহিউদ্দিন বিন সুরুজ বলেন, বিগত সময়ের মতো এবারও সরকার চামড়া শিল্প নিয়ে তামাশা করেছেন। দেশের কওমি অঙ্গনের মাদ্রাসাগুলো প্রতি কোরবানিতে সংগৃহীত চামড়া থেকে মোটাদাগে আয়ের একটা উৎসের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু বিগত দেড় দশক সময় ধরে এ দেশের চামড়া শিল্প ধ্বংস হতে চলছে। যা পক্ষান্তরে কওমি মাদ্রাসাগুলোতেও আঘাত লাগছে। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসার এতিমখানা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এবারও চামড়া সংগ্রহ করি। কিন্তু ৮-১০ ঘণ্টায়ও কোনো পাইকার বা ট্যানারি সংশ্লিষ্ট কেউই চামড়া নিতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় নিরুপায় হয়ে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেললাম! আশা করি, চামড়া শিল্প নিয়ে সরকার একটু আন্তরিক হবে।’