পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে এখন উৎসবের আমেজ। পাহাড়ের প্রধান উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু, পাতা, চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্যাপন উপলক্ষে নানান আয়োজনে মেতেছে পাহাড়ি নানা সম্প্রদায়ের লোকজন। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গয়নায় সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রা, জলকেলি, নৃত্য, গীতে জমজমাট এখন পাহাড়ি এলাকাগুলো।
আজ মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।
তিনি বলেন, ‘বৈসাবি আমাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু, পাতা, চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আজকে জেলা পরিষদ একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। এতে করে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি আসবে। আজ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের এ উৎসব চলবে।’
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে শাপলা চত্বর হয়ে টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। পরে ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা ও সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ডিসপ্লে ও জলকেলি অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গয়না পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ঢোল ও বাঁশির তালে তালে শোভাযাত্রাকে মাতিয়ে রাখেন তাঁরা। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংলা মং চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার উপপরিচালক সাজিয়া তাহের, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাৎ হোসেন, খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা, খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ছাবের, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট পরিচালক ঞ্যোহ্লা মংসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।