সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও দৈনিক অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন করেছেন ছাত্রনেতা ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন গণমাধ্যমে সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ এবং আওয়ামী লীগের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে ‘ঝালকাঠির সচেতন নাগরিক সমাজে’র ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ইকবাল সোবহান চৌধুরী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচার দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়া এবং এ বিষয়ে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করার মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাঁর ভূমিকা নিয়েও জবাবদিহি দাবি করেন তাঁরা।
তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ছাত্রনেতা আসিফ আল ইমরান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সংগঠক আবীর লস্কর ও ইমরাতুল খান ইমরান, ছাত্রনেতা মো. মাহফুজার রহমান, শান্ত আহমেদ রিজু ও শাওন শরীফ। এ সময় স্থানীয় ছাত্রনেতা ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ৪ নভেম্বর রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা জুলাই আন্দোলনের সময় মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন ৫ নভেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।