জামালপুরের ইসলামপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া চারটি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি। গত ৩০ জুন প্রকল্পগুলোর মেয়াদ শেষ হলেও দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি তিনটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে গাইবান্ধা ঈদগাহ সড়ক সিসিকরণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। এতে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, প্রকল্পের অর্থ ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় এসব প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে কাজ শুরু করার কথা ছিল। এ জন্য প্রকল্পের সভাপতিদের প্রথম কিস্তির অর্থও দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলোর কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন। পরে তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। গত ৩০ জুন প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়।
কাবিটা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে পলবান্ধা ইউনিয়নের দক্ষিণ সিরাজাবাদ ডিহিদার বাড়ি কবরস্থানের দক্ষিণ পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে ৩ লাখ ৭ হাজার ১৮৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই কবরস্থানের পশ্চিম পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪০১ টাকা।
এ ছাড়া গাইবান্ধা ইউনিয়নের গাইবান্ধা ঈদগাহ সড়ক সিসিকরণের জন্য কাবিটা কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম বামনায় আব্দুর রশিদ মেম্বারের বাড়ি থেকে মুনুর বাড়ির পাশের সড়কে ইউড্রেন নির্মাণে টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হয় তিন লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। চারটি প্রকল্পে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১০ লাখ ২০ হাজার ৯৪৫ টাকা।
প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ শুরু না হওয়ায় গত ৩ সেপ্টেম্বর আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘মেয়াদ শেষের দুই মাস পরও শুরু হয়নি চার প্রকল্পের কাজ’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর তিনটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হলেও গাইবান্ধা ঈদগাহ সড়ক সিসিকরণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।
নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রকল্পটির কাজ শুরু না হওয়ায় বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইসলামপুরের বর্তমান ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের বলেন, ‘এ উপজেলায় আমার যোগদানের আগেই প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ছাড় দেওয়া হয়েছে। যাঁরা কাজ তদারকিতে ছিলেন, বিষয়টি তাঁদেরই খতিয়ে দেখার দায়িত্ব।’
এ বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও নাজমুল হুসাইনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ইসলামপুরে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বকশীগঞ্জের পিআইও মো. হাবীবুর রহমান সুমন বলেন, ‘গাইবান্ধা ঈদগাহ সড়ক সিসিকরণের কাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না করায় প্রকল্পের টাকা ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
বর্তমান পিআইও মো. রকিবুল হাসান বলেন, ‘এ উপজেলায় আমি নতুন এসেছি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ শুরু না করার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এখন যেহেতু জানলাম, সেহেতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।’