জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থায়নে সিমেন্ট কংক্রিটের (সিসি) রাস্তা নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে না এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা। উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ব্যাপারীপাড়া মসজিদ থেকে চাঁনমিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ২৯০ ফিট দৈর্ঘ্যের রাস্তার কাজ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিডিউল অনুযায়ী রাস্তার গাইড ওয়ালের প্রস্থ ১৮ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় ৯ ইঞ্চি করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয় ইঞ্চি বালু ভরাটের পরিবর্তে মাত্র দুই থেকে তিন ইঞ্চি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে ছয় ইঞ্চি পুরু সিসি ঢালাইয়ের পরিবর্তে প্রায় তিন ইঞ্চি পুরু করে ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিডিউল অনুযায়ী রাস্তার দুই পাশে তিন ফুট করে মাটি ভরাটের পরিবর্তে নিলক্ষিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে রাবিশ এনে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে ফিতা দিয়ে মাপজোখে দেখা যায়, রাস্তার গাইড ওয়ালের প্রস্থ অনেক স্থানে প্রায় ৯ ইঞ্চি এবং বালুর স্তর দুই থেকে তিন ইঞ্চির বেশি নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি প্রকল্প সভাপতি ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে অবহিত করা হলেও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং শিডিউল অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত না করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে প্রকল্প সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
এ ব্যাপারে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার ইসলাম বলেন, কাজ শিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে। তবে কোনো অনিয়ম থাকলে এলজিইডির প্রকৌশলীরা বিষয়টি দেখবেন।
আজ সোমবার সকালে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শামছুল হক বলেন, ‘গতকাল রাতে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে শিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের কাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।’