জামালপুরের কেন্দুয়ায় গরু চুরির অপবাদ ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জোছনা বেগম (৫২) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ বসতঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নায়েব আলীর বোনের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরু চুরি হয়। খবর পেয়ে নায়েব আলী বোনের বাড়ি এসে গরু চোর সন্দেহে পাশের বাড়ির মাদকাসক্ত সুজনকে ধরতে যান।
এ সময় সুজন ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ছেলেকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে মা বাবা বাধা দেন। একপর্যায়ে ভয়ে সুজন পালিয়ে যান। এদিকে ছেলে পালিয়ে যাওয়ায় সুজনের মা জোছনা বেগম ও বাবা সুরুজ আলীকে ধরে নায়েব আলীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সুরুজ আলীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। জোছনা বেগম স্বামীকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনার পর বাড়ি ফিরে বসতঘরে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন জোছনা বেগম।
এদিকে ইউপি সদস্য নায়েব আলী সুরুজ আলীসহ তিনজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটকে রাখেন। ঘটনার খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ আটক ব্যক্তিদের পাশাপাশি নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে।
গ্রাম্য মাতব্বর আজিজুল হক জানিয়েছেন, এলাকায় গরু চুরি বেড়েছে। রাতে গরু চুরি করতে এলে এলাকাবাসী ধাওয়া দেন। পরে জোছনা বেগমের বাড়ি থেকে চোরকে ধরে আনতে যান। তাঁকে না পেয়ে সন্দেহভাজনদের এনে মারধর করা হয়।
জামালপুর সদর থানার উপপরিদর্শক খায়রুজ্জামান ফাহিম বলেন, ‘দুপুর ১২টায় ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। আমরা বিষয়টি দেখছি। বিভিন্নভাবে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’