গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সুদের টাকা দিতে না পারায় এক বিধবার গোয়ালঘর থেকে গাভি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। মূল টাকা ও অতিরিক্ত সুদ পরিশোধ করার পরও গরু কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছে ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিধবা রোকেয়া বেওয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু হোসেন সরকার (৫৫) ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্ন বেগম রুবিনা (৪৫)।
থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রোকেয়া বেওয়ার মেয়ে অজেদা বেগম আবু হোসেনের কাছ থেকে ছয় মাস মেয়াদে ১২ হাজার টাকা সুদের চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পরবর্তী আড়াই বছরে সুদের মূল টাকা বাবদ পরিবারটি অতিরিক্ত ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে।
একপর্যায়ে ঋণের টানাপোড়েন মেটাতে নিজেদের গাভি বিক্রি করে দাদনের মূল ৫০ হাজার টাকাও ফেরত দেওয়া হয়। সে সময় বকেয়া থাকা সুদের ১২ হাজার টাকা মাফ করার জন্য অনুরোধ করলে অভিযুক্তরা তাতে সম্মতি দেন বলে দাবি পরিবারের।
তবে সম্প্রতি সেই মওকুফ করা ১২ হাজার টাকা পুনরায় দাবি করেন দাদন ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগীরা তা পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করলে অঙ্কের পরিমাণ বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং পরিবারটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রোকেয়া বেওয়ার বাড়িতে চড়াও হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা গোয়ালঘর থেকে বিধবার গর্ভবতী একটি গাভি (আনুমানিক মূল্য ৭৫ হাজার টাকা) জোরপূর্বক বের করে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে বহু চেষ্টা চালিয়েও গরুটি উদ্ধার করতে না পেরে থানায় আশ্রয় নেন ওই বিধবা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোকেয়া বেওয়া বলেন, ‘৫০ হাজার টাকার জন্য আগেই ৬০ হাজার টাকা সুদ দিছি। সে সময়ে ১২ হাজার টাকা দিতে না পেয়ে মাফ চেয়েছি। তারা ওই সময় কিছু বলেনি। কিন্তু এত দিন পর এখন আবার ওই সুদের ১২ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে সকালে আমার গাভি গরুটা জোর করে নিয়ে গেছে। ফেরত চাইতে গেলেও দেয় নাই।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবু হোসেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুদের টাকার জের ধরে গরু নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সন্ধ্যার দিকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’