গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের ১০ দিন পর উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এই ঘটনায় অপহরণ মামলার এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সোমবার রাত ৮টার দিকে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সমস গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. বেল্লাল হোসেন (৩৩) ও মো. বিদ্যুৎ (২৮) এবং বেড়াডাঙ্গা বাজার এলাকার মৃত মছলিম উদ্দিনের ছেলে মো. বাবুল হোসেন (৩৫)।
র্যাব জানায়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় বেল্লাল হোসেন ওই শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায় শিক্ষার্থী। পরে গত ৩১ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বেল্লাল হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা ওই স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্বজনদের জানানো হয়। কিন্তু স্কুলছাত্রীকে খুঁজে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আর কোনো সন্ধান দিতে পারেননি বলে র্যাব জানায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ৫ আগস্ট সুন্দরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাব আরও জানায়, গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সমস গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধার একটি দল। অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং মামলার এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং মামলার এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ও গ্রেপ্তার আসামিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুন্দরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’