জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পিছিয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-২০-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
এই মামলার আসামিরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তাঁর প্রেমিক মো. মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। মামলার তিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আবার তাঁদের কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
এর আগে দুই দফায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানো হয়।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর বিকেলে পুরান ঢাকার বংশাল থানার নুর বক্স লেনের একটি ভবনে ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাকে পড়াতে যান তিনি। ওই দিন ভবনটির নিচতলায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তৃতীয় তলার সিঁড়ির পাশে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে বর্ষা জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাইকে মেসেঞ্জারে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান। পরে আরও এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে খবর পেয়ে জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। ভবনের সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখে তাঁরা তৃতীয় তলার সিঁড়ির পাশে জোবায়েদের মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন।
অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তাঁর প্রেমিক মো. মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে আসামি করা হয়। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ত্রিভুজ প্রেমের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়।