রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আলোচিত গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা চাঁদাবাজি নয়, বরং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক শত্রুতা কাজ করেছে। এমন দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু।
হামলায় বেঁচে যাওয়া যুবদলের এই নেতার অভিযোগ, নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে তাঁর প্রার্থিতা ও গ্রহণযোগ্যতা সহ্য করতে না পেরে কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি তাঁকে হত্যার মূল নীল নকশা সাজিয়েছিলেন।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটি (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি হত্যাচেষ্টা, হামলা ও একাধিক সন্দেহভাজন ঘাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার ছবি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় একদল দুর্বৃত্ত। হামলায় কাফরুল থানা যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং দুই ফুটপাত ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন।
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনিকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, ‘মূল মাস্টারমাইন্ড বা মূল ঘাতক সাব্বির দেওয়ান জনি। সে-ই অর্থদাতা বলে আমার সন্দেহ। তবে তা প্রমাণের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও প্রশাসনের।’
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি মার্কেটের গ্যারেজ অবৈধভাবে সিএনজি হাফিজ নামে এক ব্যক্তিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল, যা কিলিং মিশন পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয়। ওই মার্কেটের সভাপতি সাব্বির দেওয়ান জনি অন্য সদস্যদের মতামত না নিয়ে জেনেশুনেই তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পরপরই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দেওয়া বক্তব্যকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন এই যুবদল নেতা।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল—স্থানীয় আধিপত্য, বর্জ্য সংগ্রহের টেন্ডার, ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসা ও ফুটপাতের চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
পুলিশের এই দাবি খণ্ডন করে হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘মিরপুর ১৩ নম্বরে আমার বা অন্য কারও ডিশ-ইন্টারনেটের ব্যবসা কিংবা ফুটপাতে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট নেই। এমনকি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখনো এই অঞ্চলে ময়লার কোনো টেন্ডারই আহ্বান করা হয়নি।’
বাবু দাবি করেন, মূল চক্রান্তকারীকে আড়াল করতেই চক্রান্তকারীরা মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এই কিলিং মিশন বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার বাইর থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনিদের ভাড়া করা হয়েছিল।
পরিকল্পনাকারী নেপথ্যে থেকে ‘সিএনজি হাফিজ’ নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে পুরো মিশন পরিচালনা করান বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভাড়াটে খুনি আবির, জিয়ারুল ও বাস্তবায়নকারী হাফিজের সঙ্গে সাব্বির দেওয়ান জনির একাধিক ছবি সাংবাদিকদের সামনে প্রদর্শন করা হয়।
হাফিজুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক ঘাতকদের সঙ্গে সাব্বির দেওয়ান জনির সরাসরি ছবি থাকার পরও কেন পুলিশ তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করছে না।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কার কথা প্রকাশ করে এই যুবদল নেতা বলেন, ‘আমাকে হত্যার চেষ্টা এক দিনে নয়, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে করা হচ্ছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা নেতাদের সরিয়ে দিয়ে যারা নতুন করে নিজেদের জাহির করতে চাইছে, তারাই নিজেদের পথ পরিষ্কার করতে কিলারদের নিয়োগ দিয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে হাফিজুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং মূল নির্দেশদাতাসহ সব পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।